ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

তদন্তে গিয়ে ঘুষ শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব এসআইর!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম : ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৪
  • ৬৫৬ বার পঠিত
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মামলা তদন্ত করতে গিয়ে এক নারীকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

 

যার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ তিনি হলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজার কার্যালয়ে কর্মরত এসআই মো. শামিম মিয়া। গত ১৮ ডিসেম্বর কক্সবাজারের চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য চকরিয়া-পেকুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দিয়েছে। এসআই শামিম ছাড়াও মামলায় আসামি করা হয়েছে জেলার মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা এলাকার উজ্জ্বল কুমারকে।

 

মামলার আবেদনে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা এলাকার উজ্জ্বল কুমার নামে এক যুবক প্রলোভনে ফেলে ধর্ষণ করায় তিনি বাদী হয়ে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল ধর্ষণ মামলা করেন। এরপর আসামি উজ্জ্বল কুমার ওই বছরের ২৬ জুন চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হয়রানির উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে সাজানো মামলা করেন। এই মামলা তদন্তের জন্য পিবিআই কক্সবাজার কার্যালয়ের এসআই শামিম মিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 

মামলার আবেদনে ভুক্তভোগী নারী আরও উল্লেখ করেন, দায়িত্ব পেয়ে এসআই শামিম মিয়া তদন্তকালীন সময়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব এবং ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে গত ৯ আগস্ট কক্সবাজারের একটি বাসায় ডেকে নিয়ে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি এবং শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। তার দাবি পূরণ না হলে মামলার প্রতিবেদন বিরুদ্ধে দেওয়ার হুমকি দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত বছর ১৫ এপ্রিল মামলার বাদী নারীর বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন এসআই শামিম। এরপর গত ৩ নভেম্বর ভোরে ওই নারীর ইমো নম্বরে ভিডিও কল করেন। সে সময় আপত্তিকর বার্তাও পাঠান তিনি।

 

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই শামিম বলেন, ‘ওই নারীর বিরুদ্ধে করা একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলাম। মামলা তদন্তে করতে গিয়ে ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিই। এরপর বিভিন্ন সময় ওই নারীর সঙ্গে ইমো নম্বরে কথা হয়। বিভিন্ন সময় গভীর রাতেও ওই নারীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে কথা হয়েছে। মেসেঞ্জারে ভুলে ওই নারীর সঙ্গে কিছু অশ্লীল বাক্যবিনিময় হয়েছে।’

 

এ বিষয়ে জানতে পিবিআই কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘এ ঘটনার ব্যাপারে কিছুই জানি না।’

 

ভুক্তভোগী নারীর করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকরিয়া-পেকুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রকিব উর রাজা বলেন, নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে মামলার আসামিদের নোটিস দিয়ে ডাকা হয়নি। দুয়েক দিনের মধ্যে তার কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য মামলার আসামিদের ঠিকানায় নোটিস পাঠানো হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিপকের, এখনো আটক সৌরভ ও রাঙ্কা

error: Content is protected !!

তদন্তে গিয়ে ঘুষ শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব এসআইর!

আপডেট টাইম : ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৪
ডেস্ক রিপোর্ট :
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মামলা তদন্ত করতে গিয়ে এক নারীকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

 

যার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ তিনি হলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজার কার্যালয়ে কর্মরত এসআই মো. শামিম মিয়া। গত ১৮ ডিসেম্বর কক্সবাজারের চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য চকরিয়া-পেকুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দিয়েছে। এসআই শামিম ছাড়াও মামলায় আসামি করা হয়েছে জেলার মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা এলাকার উজ্জ্বল কুমারকে।

 

মামলার আবেদনে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা এলাকার উজ্জ্বল কুমার নামে এক যুবক প্রলোভনে ফেলে ধর্ষণ করায় তিনি বাদী হয়ে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল ধর্ষণ মামলা করেন। এরপর আসামি উজ্জ্বল কুমার ওই বছরের ২৬ জুন চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হয়রানির উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে সাজানো মামলা করেন। এই মামলা তদন্তের জন্য পিবিআই কক্সবাজার কার্যালয়ের এসআই শামিম মিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 

মামলার আবেদনে ভুক্তভোগী নারী আরও উল্লেখ করেন, দায়িত্ব পেয়ে এসআই শামিম মিয়া তদন্তকালীন সময়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব এবং ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে গত ৯ আগস্ট কক্সবাজারের একটি বাসায় ডেকে নিয়ে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি এবং শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। তার দাবি পূরণ না হলে মামলার প্রতিবেদন বিরুদ্ধে দেওয়ার হুমকি দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত বছর ১৫ এপ্রিল মামলার বাদী নারীর বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন এসআই শামিম। এরপর গত ৩ নভেম্বর ভোরে ওই নারীর ইমো নম্বরে ভিডিও কল করেন। সে সময় আপত্তিকর বার্তাও পাঠান তিনি।

 

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই শামিম বলেন, ‘ওই নারীর বিরুদ্ধে করা একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলাম। মামলা তদন্তে করতে গিয়ে ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিই। এরপর বিভিন্ন সময় ওই নারীর সঙ্গে ইমো নম্বরে কথা হয়। বিভিন্ন সময় গভীর রাতেও ওই নারীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে কথা হয়েছে। মেসেঞ্জারে ভুলে ওই নারীর সঙ্গে কিছু অশ্লীল বাক্যবিনিময় হয়েছে।’

 

এ বিষয়ে জানতে পিবিআই কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘এ ঘটনার ব্যাপারে কিছুই জানি না।’

 

ভুক্তভোগী নারীর করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকরিয়া-পেকুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রকিব উর রাজা বলেন, নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে মামলার আসামিদের নোটিস দিয়ে ডাকা হয়নি। দুয়েক দিনের মধ্যে তার কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য মামলার আসামিদের ঠিকানায় নোটিস পাঠানো হবে।