ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত Logo সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

জ্যেষ্ঠদের রেখে নবীনদের বদলি

গোদাগাড়ীতে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ

শিক্ষকসংকটের বিদ্যালয় থেকেও বদলির অভিযোগ; অর্থ লেনদেনের দাবি

এখলাস উদ্দিনঃ

 

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আবেদন করেও বদলির সুযোগ না পাওয়া কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগ, বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে অপেক্ষাকৃত নবীন শিক্ষকদের বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি বদলির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর গোদাগাড়ী উপজেলার ভেতরে ২৫ জন সহকারী শিক্ষককে বদলি করা হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুনমুন সুলতানা বদলি কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে আদেশে স্বাক্ষর করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছিলেন কমিটির আহ্বায়ক।

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর আন্তঃউপজেলা বদলির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আগ্রহী শিক্ষকদের ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে বলা হলে প্রায় ১০৭ জন শিক্ষক আবেদন করেন। এর মধ্যে ২৫ জনের বদলি হয়।
বদলি হওয়া শিক্ষকদের তালিকা পর্যালোচনা করে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, জ্যেষ্ঠ অনেক শিক্ষককে রেখে তুলনামূলকভাবে নবীন কয়েকজন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে।

 

শিক্ষকসংকটের বিদ্যালয় থেকেও বদলিঃ

পদ্মা নদীর ওপারে ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা দিয়াড় মানিকচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা সহকারী শিক্ষক মমিনুল ইসলামকে সহড়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি বদলির সুযোগ পেয়েছেন। তবে মমিনুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার বা স্বীকার না করে বলেন, নদী পার হয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করা তাঁর জন্য কষ্টকর ছিল। এ কারণে বদলির আবেদন করেছিলেন।
তিনি বলেন, “রোজ রোজ নদী পার হয়ে স্কুলে যাওয়া কষ্টের ছিল। এ জন্য বদলির আবেদন করেছিলাম। এখন এ পারে সড়কের পাশের একটা স্কুলে আসতে পেরেছি।”

তাঁর বদলির পর বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষক থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আরেকটা নিয়ম আছে, ৪০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন করে শিক্ষক থাকলেই হবে।”

 

তবে স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিয়াড় মানিকচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ১৭০ জন। চারজন শিক্ষক থাকলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত দাঁড়ায় প্রতি শিক্ষকের বিপরীতে ৪২ দশমিক ৫ জন শিক্ষার্থী। ফলে বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালার শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের শর্ত কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জ্যেষ্ঠদের রেখে নবীনদের বদলির অভিযোগঃ

বদলির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও তালিকায় কয়েকজন অপেক্ষাকৃত নবীন শিক্ষকের বদলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী শিক্ষকরা।

 

২০১৩ সালে যোগদান করা মাছমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসিমা খাতুনকে বিজয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ২০২৩ সালে যোগ দেওয়া চর হনুমন্তনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আলিমুজ্জামানকে ঘিয়াপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং ২০২৪ সালে নিয়োগ পাওয়া সরদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেরিনা খাতুনকে ঈদলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ১৯৯৯ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে চাকরিতে যোগ দেওয়া কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বদলির আবেদন করেও সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, “জ্যেষ্ঠ অনেক শিক্ষক বদলির আবেদন করেছিলেন। তাঁদের রেখে নতুন শিক্ষকদের বদলি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনৈতিক লেনদেন হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ।”

৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগঃ

বদলিতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাঁদের একজনের দাবি, “৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। যারা টাকা দিয়েছেন, তাদের বদলি হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম দুলালের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকেও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে এবং কয়েকজন শিক্ষক নেতা বদলির বিষয়ে তদবিরে সমন্বয় করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নথি বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যঃ

বদলিতে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বদলি কমিটির সদস্যসচিব মুনমুন সুলতানা বলেন, “বদলি তো আমি একা করিনি। একটা নির্দিষ্ট কমিটি আছে। আমি আমার কথা বলতে পারি, অন্যের কথা বলতে পারি না। আমি আমারটুকু ক্লিয়ার, এটা বলতে পারি।”

বদলি কমিটির আহ্বায়ক ও গোদাগাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

শিক্ষকদের বদলি নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ, বদলির তালিকা তৈরির মানদণ্ড এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী শিক্ষকরা।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

জ্যেষ্ঠদের রেখে নবীনদের বদলি

গোদাগাড়ীতে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
এখলাস উদ্দিন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

এখলাস উদ্দিনঃ

 

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আবেদন করেও বদলির সুযোগ না পাওয়া কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগ, বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে অপেক্ষাকৃত নবীন শিক্ষকদের বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি বদলির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর গোদাগাড়ী উপজেলার ভেতরে ২৫ জন সহকারী শিক্ষককে বদলি করা হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুনমুন সুলতানা বদলি কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে আদেশে স্বাক্ষর করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছিলেন কমিটির আহ্বায়ক।

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর আন্তঃউপজেলা বদলির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আগ্রহী শিক্ষকদের ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে বলা হলে প্রায় ১০৭ জন শিক্ষক আবেদন করেন। এর মধ্যে ২৫ জনের বদলি হয়।
বদলি হওয়া শিক্ষকদের তালিকা পর্যালোচনা করে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, জ্যেষ্ঠ অনেক শিক্ষককে রেখে তুলনামূলকভাবে নবীন কয়েকজন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে।

 

শিক্ষকসংকটের বিদ্যালয় থেকেও বদলিঃ

পদ্মা নদীর ওপারে ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা দিয়াড় মানিকচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা সহকারী শিক্ষক মমিনুল ইসলামকে সহড়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি বদলির সুযোগ পেয়েছেন। তবে মমিনুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার বা স্বীকার না করে বলেন, নদী পার হয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করা তাঁর জন্য কষ্টকর ছিল। এ কারণে বদলির আবেদন করেছিলেন।
তিনি বলেন, “রোজ রোজ নদী পার হয়ে স্কুলে যাওয়া কষ্টের ছিল। এ জন্য বদলির আবেদন করেছিলাম। এখন এ পারে সড়কের পাশের একটা স্কুলে আসতে পেরেছি।”

তাঁর বদলির পর বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষক থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আরেকটা নিয়ম আছে, ৪০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন করে শিক্ষক থাকলেই হবে।”

 

তবে স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিয়াড় মানিকচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ১৭০ জন। চারজন শিক্ষক থাকলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত দাঁড়ায় প্রতি শিক্ষকের বিপরীতে ৪২ দশমিক ৫ জন শিক্ষার্থী। ফলে বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালার শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের শর্ত কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জ্যেষ্ঠদের রেখে নবীনদের বদলির অভিযোগঃ

বদলির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও তালিকায় কয়েকজন অপেক্ষাকৃত নবীন শিক্ষকের বদলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী শিক্ষকরা।

 

২০১৩ সালে যোগদান করা মাছমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসিমা খাতুনকে বিজয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ২০২৩ সালে যোগ দেওয়া চর হনুমন্তনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আলিমুজ্জামানকে ঘিয়াপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং ২০২৪ সালে নিয়োগ পাওয়া সরদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেরিনা খাতুনকে ঈদলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ১৯৯৯ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে চাকরিতে যোগ দেওয়া কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বদলির আবেদন করেও সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, “জ্যেষ্ঠ অনেক শিক্ষক বদলির আবেদন করেছিলেন। তাঁদের রেখে নতুন শিক্ষকদের বদলি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনৈতিক লেনদেন হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ।”

৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগঃ

বদলিতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাঁদের একজনের দাবি, “৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। যারা টাকা দিয়েছেন, তাদের বদলি হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম দুলালের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকেও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে এবং কয়েকজন শিক্ষক নেতা বদলির বিষয়ে তদবিরে সমন্বয় করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নথি বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যঃ

বদলিতে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বদলি কমিটির সদস্যসচিব মুনমুন সুলতানা বলেন, “বদলি তো আমি একা করিনি। একটা নির্দিষ্ট কমিটি আছে। আমি আমার কথা বলতে পারি, অন্যের কথা বলতে পারি না। আমি আমারটুকু ক্লিয়ার, এটা বলতে পারি।”

বদলি কমিটির আহ্বায়ক ও গোদাগাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

শিক্ষকদের বদলি নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ, বদলির তালিকা তৈরির মানদণ্ড এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী শিক্ষকরা।