ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩০ জন

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ
কুষ্টিয়া জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় নতুন করে ৩০ জন হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদনে জেলার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় হাম উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫৬ জনে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৩০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তারা সবাই হামের সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২৩ জন রোগী। বর্তমানে নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

 

গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলার হাম পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫১ জন। ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে তিন জনের। এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৫৫ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের।

 

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন, ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫জন, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১জন এবং দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২জন উপসর্গে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে।

 

কুষ্টিয়ায় গত ২০ এপ্রিল থেকে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। এই ক্যাম্পেইন চলবে ১১ মে পর্যন্ত। ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় টিকা দেওয়া হচ্ছে। জেলায় এই বয়সের মোট শিশুর সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ৯২৬ জন।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, হঠাৎ করে এই অঞ্চলে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পেছনে টিকাদানে অনীহা এবং আবহাওয়া পরিবর্তন বড় কারণ হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন।

 

চিকিৎসকরা শিশুদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করার এবং হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনালী ব্যাংক স্টাফ কলেজে ১১৫ কেডব্লিউপি ক্ষমতার সোলার সিস্টেম উদ্বোধন

error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩০ জন

আপডেট টাইম : ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :
ইসমাইল হােসেন বাবুঃ
কুষ্টিয়া জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় নতুন করে ৩০ জন হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদনে জেলার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় হাম উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫৬ জনে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৩০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তারা সবাই হামের সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২৩ জন রোগী। বর্তমানে নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

 

গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলার হাম পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫১ জন। ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে তিন জনের। এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৫৫ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের।

 

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন, ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫জন, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১জন এবং দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২জন উপসর্গে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে।

 

কুষ্টিয়ায় গত ২০ এপ্রিল থেকে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। এই ক্যাম্পেইন চলবে ১১ মে পর্যন্ত। ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় টিকা দেওয়া হচ্ছে। জেলায় এই বয়সের মোট শিশুর সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ৯২৬ জন।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, হঠাৎ করে এই অঞ্চলে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পেছনে টিকাদানে অনীহা এবং আবহাওয়া পরিবর্তন বড় কারণ হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন।

 

চিকিৎসকরা শিশুদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করার এবং হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।