ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

আলফাডাঙ্গায় স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে নির্যাতনের অভিযোগ

-ছবিঃ প্রতীকী।

মোঃ ইকবাল হোসেনঃ

 

ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা ইকরাইল এলাকায় অবস্থিত খাইরুন্নেসা মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে এক নারী শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মুস্তাক হোসেনের বিরুদ্ধে। গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকার নাম ফারহানা নাঈম। তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা এবং একই সঙ্গে সাবেক প্রধান শিক্ষিকা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সামনেই প্রধান শিক্ষক মুস্তাক হোসেন তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন, এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তপাতের শিকার হন।

আহত শিক্ষিকার পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক ফারহানা নাঈমের নিকট থেকে অবৈধভাবে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে প্রধান শিক্ষক জোরপূর্বক ৫০ হাজার টাকার একটি চেক রেখে দেন। এরপর থেকেই তাকে চাকরি থেকে বিতাড়িত করার উদ্দেশ্যে নিয়মিতভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছিল।

ঘটনার দিন পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, আশপাশের লোকজন দ্রুত গ্রাম্য চিকিৎসক শংকরকে ডেকে এনে আহত শিক্ষিকার প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এ ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় শিক্ষাঙ্গনে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একজন নারী শিক্ষিকার উপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং নারী নিরাপত্তা ও শিক্ষক সমাজের মর্যাদার উপর সরাসরি আঘাত।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকার পুত্র এস. এম. নাফিউর রহমান এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুস্তাক হোসেন জানান, সহকারী শিক্ষিকা আমার আপন বড় বোন আমাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়েছে। তবে টাকা নেওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেছেন।

 

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমি বলেন,“খাইরুন্নেসা মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে একজন নারী শিক্ষিকার উপর শারীরিক নির্যাতনের বিষয়ে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রণদাপ্রসাদ সাহা বাড়ির পূজামণ্ডপে মন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা

error: Content is protected !!

আলফাডাঙ্গায় স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৪:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
মোঃ ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

মোঃ ইকবাল হোসেনঃ

 

ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা ইকরাইল এলাকায় অবস্থিত খাইরুন্নেসা মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে এক নারী শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মুস্তাক হোসেনের বিরুদ্ধে। গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকার নাম ফারহানা নাঈম। তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা এবং একই সঙ্গে সাবেক প্রধান শিক্ষিকা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সামনেই প্রধান শিক্ষক মুস্তাক হোসেন তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন, এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তপাতের শিকার হন।

আহত শিক্ষিকার পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক ফারহানা নাঈমের নিকট থেকে অবৈধভাবে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে প্রধান শিক্ষক জোরপূর্বক ৫০ হাজার টাকার একটি চেক রেখে দেন। এরপর থেকেই তাকে চাকরি থেকে বিতাড়িত করার উদ্দেশ্যে নিয়মিতভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছিল।

ঘটনার দিন পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, আশপাশের লোকজন দ্রুত গ্রাম্য চিকিৎসক শংকরকে ডেকে এনে আহত শিক্ষিকার প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এ ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় শিক্ষাঙ্গনে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একজন নারী শিক্ষিকার উপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং নারী নিরাপত্তা ও শিক্ষক সমাজের মর্যাদার উপর সরাসরি আঘাত।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকার পুত্র এস. এম. নাফিউর রহমান এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুস্তাক হোসেন জানান, সহকারী শিক্ষিকা আমার আপন বড় বোন আমাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়েছে। তবে টাকা নেওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেছেন।

 

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমি বলেন,“খাইরুন্নেসা মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে একজন নারী শিক্ষিকার উপর শারীরিক নির্যাতনের বিষয়ে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”