ঢাকা , বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত Logo সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

আদালতে মামলার পর নারীকে তুলে নিয়ে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার

- সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার নুরজাহান বেগম (৬৫)।

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ায় নিজেদের বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাত দিন আগে আদালতে মামলা করেন এক নারী। সেই মামলার বিষয়ে ‘কথা’ বলতে আজ রোববার সকালে তাকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

ওই নারীর নাম নুরজাহান বেগম (৬৫)। তার বাড়ি সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামে।

 

ওই নারীর পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিজ বাড়ি ও ছেলের গুদামে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন নুরজাহান বেগম। সেই মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও কৃষক দলের স্থানীয় ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫–৩০ জনকে আসামি করা হয়। কয়েক দিন ধরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন।

 

আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে থানা থেকে একদল পুলিশ নুরজাহানের বাসায় যায়। এ সময় তিনি রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশ তাকে জানায়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদালতের মামলার বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর তারা তাকে তুলে নিয়ে যায়।

 

নুরজাহানের মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পী বলেন, সপ্তাহ দুয়েক আগে জমি সংক্রান্ত ও সামাজিক বিরোধের জেরে আমাদের বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট চালায় এলাকার একদল মানুষ। পরে কৃষক দলের স্থানীয় অফিসে ভাঙচুরের ঘটনার পর এলাকার আরও মানুষের বাড়ি-ঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কিছু লোকজনও এ ঘটনায় জড়িত।

 

সেলিনা আক্তার জানান, তাদের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ নেয়নি। পরে ২১ সেপ্টেম্বর তার মা বাদী হয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকার কিছু মানুষকে আসামি করে কুষ্টিয়া আদালতে মামলা করেন। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে। মামলার পর থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি আসছিল।

 

আজ সকালে একদল পুলিশ হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তারা তার মাকে বলে, আপনি আদালতে গুদাম পোড়ানোর মামলা করেছেন। মামলার বাদী আপনি। এ কারণে ওসি সাহেব আপনার সঙ্গে কথা বলবেন। আমাদের সঙ্গে চলুন। এ কথা বলেই কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলায় স্থানীয় কৃষক দলের অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদের সন্দেহ করা হয়। এ ঘটনার পরপরই এলাকার ২০-২৫টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে বিএনপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে নুরজাহান বেগমের বাড়িও রয়েছে।

 

পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর কৃষক দলের অফিসে হামলার ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১২০ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়। হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি শ্রমিক দলের প্রায় এক ডজন নেতাকে আসামি করা হয়েছে।

 

নুরজাহান বেগমের ছেলে রুহুল আমিন মোবাইলে দৈনিক সময়ের প্রত্যাশাকে বলেন, আমি চাকরি করি। এখন আমাকে যুবলীগ ট্যাগ দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমার বাড়ি ও গুদামে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি। পুলিশ আমার বৃদ্ধ মাকে ধরে নিয়ে গেছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি এসএম মামুনুর রশিদ আজ দুপুরে বলেন, আমি থানার বাইরে আছি, থানায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানাব।’ পরে যোগাযোগ করলে ওসি বলেন, কৃষক দলের অফিস ভাঙচুরের সঙ্গে নুরজাহান জড়িত। তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নুরজাহানের মামলা না নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ধোবাউড়ায় লাইটার মেকার থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী বুরোজ আলী, ধাদন ব্যবসা নিয়ে নানা অভিযোগ

error: Content is protected !!

আদালতে মামলার পর নারীকে তুলে নিয়ে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার

আপডেট টাইম : ১৮ ঘন্টা আগে
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ায় নিজেদের বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাত দিন আগে আদালতে মামলা করেন এক নারী। সেই মামলার বিষয়ে ‘কথা’ বলতে আজ রোববার সকালে তাকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

ওই নারীর নাম নুরজাহান বেগম (৬৫)। তার বাড়ি সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামে।

 

ওই নারীর পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিজ বাড়ি ও ছেলের গুদামে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন নুরজাহান বেগম। সেই মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও কৃষক দলের স্থানীয় ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫–৩০ জনকে আসামি করা হয়। কয়েক দিন ধরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন।

 

আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে থানা থেকে একদল পুলিশ নুরজাহানের বাসায় যায়। এ সময় তিনি রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশ তাকে জানায়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদালতের মামলার বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর তারা তাকে তুলে নিয়ে যায়।

 

নুরজাহানের মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পী বলেন, সপ্তাহ দুয়েক আগে জমি সংক্রান্ত ও সামাজিক বিরোধের জেরে আমাদের বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট চালায় এলাকার একদল মানুষ। পরে কৃষক দলের স্থানীয় অফিসে ভাঙচুরের ঘটনার পর এলাকার আরও মানুষের বাড়ি-ঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কিছু লোকজনও এ ঘটনায় জড়িত।

 

সেলিনা আক্তার জানান, তাদের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ নেয়নি। পরে ২১ সেপ্টেম্বর তার মা বাদী হয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকার কিছু মানুষকে আসামি করে কুষ্টিয়া আদালতে মামলা করেন। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে। মামলার পর থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি আসছিল।

 

আজ সকালে একদল পুলিশ হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তারা তার মাকে বলে, আপনি আদালতে গুদাম পোড়ানোর মামলা করেছেন। মামলার বাদী আপনি। এ কারণে ওসি সাহেব আপনার সঙ্গে কথা বলবেন। আমাদের সঙ্গে চলুন। এ কথা বলেই কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলায় স্থানীয় কৃষক দলের অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদের সন্দেহ করা হয়। এ ঘটনার পরপরই এলাকার ২০-২৫টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে বিএনপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে নুরজাহান বেগমের বাড়িও রয়েছে।

 

পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর কৃষক দলের অফিসে হামলার ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১২০ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়। হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি শ্রমিক দলের প্রায় এক ডজন নেতাকে আসামি করা হয়েছে।

 

নুরজাহান বেগমের ছেলে রুহুল আমিন মোবাইলে দৈনিক সময়ের প্রত্যাশাকে বলেন, আমি চাকরি করি। এখন আমাকে যুবলীগ ট্যাগ দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমার বাড়ি ও গুদামে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি। পুলিশ আমার বৃদ্ধ মাকে ধরে নিয়ে গেছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি এসএম মামুনুর রশিদ আজ দুপুরে বলেন, আমি থানার বাইরে আছি, থানায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানাব।’ পরে যোগাযোগ করলে ওসি বলেন, কৃষক দলের অফিস ভাঙচুরের সঙ্গে নুরজাহান জড়িত। তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নুরজাহানের মামলা না নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।