ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত Logo সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি Logo নগরকান্দায় ৯৫০ পিচ ইয়াবাসহ আটক ১
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

আড়িয়াল খাঁ নদে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

অপি মুন্সীঃ

মাদারীপুর জেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আড়িয়াল খাঁ নদে প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। মাঝেমধ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কয়েকজন শ্রমিককে আটক করে জেলহাজতে পাঠালেও, প্রকৃত হোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পেটের দায়ে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকরা জেল খাটলেও, মূল পরিকল্পনাকারীরা থেকে যাচ্ছেন নির্বিঘ্নে। প্রশাসন শ্রমিক আটক করে জানান দেয় যে তারা বালু উত্তোলন বন্ধে কাজ করছে, কিন্তু মূল হোতাদের নাম উঠলেই প্রশাসনের মুখে নেমে আসে নিরবতা। তখন কেবল বলা হয়—“ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই চিত্র নতুন নয়। অভিযান চলে, আবার শুরু হয় আগের মতোই ড্রেজিং। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, মোটা অঙ্কের লেনদেন কি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার সাথেও সম্পৃক্ত? আর সেই কারণেই কি মূল হোতারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে?

সরেজমিনে দেখা যায়, আড়িয়াল খাঁ কুমার নদে সারি সারি বল্কগেট জাহাজ বেঁধে রাখা হয়েছে। সেখান থেকেই ড্রেজারের মাধ্যমে বালু তোলা হচ্ছে, যা ওই জাহাজে ভরে বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হয়। একটির কাজ শেষ হলে আরেকটি বল্কগেট ড্রেজারের কাছে গিয়ে বালু তোলে—এইভাবেই রাত-দিন চলছে অবৈধ বালু ব্যবসা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই ব্যবসার পেছনে কিছু প্রভাবশালী নেতা সক্রিয় ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর ভেবেছিলেন বালু উত্তোলন বন্ধ হবে, কিন্তু হয়েছে উল্টো—এখন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় অনেকেই জানান, বালু ব্যবসার বিরুদ্ধে মুখ খুললে তাদের হুমকি দেওয়া হয়, এমনকি হামলার শিকারও হতে হয়।

এই বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরে দুই ভাইসহ চারজনকে মসজিদে ঢুকে কুপিয়ে হত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটেছে।

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া সাবাব বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই। অনেককে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মূল হোতারা যারা পেছন থেকে এই কাজ পরিচালনা করেন, তাদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। চাইলে পুলিশ মামলা করে তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনতে পারে।”

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান এ বিষয়ে বলেন, “জমি বা নদী জেলা প্রশাসকের অধীনে। তাই এ বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে পারি না।”

জেলা প্রশাসক মোছা. ইয়াসমিন আক্তার বলেন, “বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং জড়িতদের মোবাইল কোর্টে সাজা দেওয়া হচ্ছে।” তবে অবৈধ বালু উত্তোলনের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা—জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উত্তর দেননি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএম সেবা পদক পেলেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার হাবীবুল্লাহ

error: Content is protected !!

আড়িয়াল খাঁ নদে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

আপডেট টাইম : ০৬:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
অপি মুন্সী, শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি :

অপি মুন্সীঃ

মাদারীপুর জেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আড়িয়াল খাঁ নদে প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। মাঝেমধ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কয়েকজন শ্রমিককে আটক করে জেলহাজতে পাঠালেও, প্রকৃত হোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পেটের দায়ে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকরা জেল খাটলেও, মূল পরিকল্পনাকারীরা থেকে যাচ্ছেন নির্বিঘ্নে। প্রশাসন শ্রমিক আটক করে জানান দেয় যে তারা বালু উত্তোলন বন্ধে কাজ করছে, কিন্তু মূল হোতাদের নাম উঠলেই প্রশাসনের মুখে নেমে আসে নিরবতা। তখন কেবল বলা হয়—“ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই চিত্র নতুন নয়। অভিযান চলে, আবার শুরু হয় আগের মতোই ড্রেজিং। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, মোটা অঙ্কের লেনদেন কি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার সাথেও সম্পৃক্ত? আর সেই কারণেই কি মূল হোতারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে?

সরেজমিনে দেখা যায়, আড়িয়াল খাঁ কুমার নদে সারি সারি বল্কগেট জাহাজ বেঁধে রাখা হয়েছে। সেখান থেকেই ড্রেজারের মাধ্যমে বালু তোলা হচ্ছে, যা ওই জাহাজে ভরে বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হয়। একটির কাজ শেষ হলে আরেকটি বল্কগেট ড্রেজারের কাছে গিয়ে বালু তোলে—এইভাবেই রাত-দিন চলছে অবৈধ বালু ব্যবসা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই ব্যবসার পেছনে কিছু প্রভাবশালী নেতা সক্রিয় ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর ভেবেছিলেন বালু উত্তোলন বন্ধ হবে, কিন্তু হয়েছে উল্টো—এখন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় অনেকেই জানান, বালু ব্যবসার বিরুদ্ধে মুখ খুললে তাদের হুমকি দেওয়া হয়, এমনকি হামলার শিকারও হতে হয়।

এই বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরে দুই ভাইসহ চারজনকে মসজিদে ঢুকে কুপিয়ে হত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটেছে।

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া সাবাব বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই। অনেককে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মূল হোতারা যারা পেছন থেকে এই কাজ পরিচালনা করেন, তাদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। চাইলে পুলিশ মামলা করে তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনতে পারে।”

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান এ বিষয়ে বলেন, “জমি বা নদী জেলা প্রশাসকের অধীনে। তাই এ বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে পারি না।”

জেলা প্রশাসক মোছা. ইয়াসমিন আক্তার বলেন, “বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং জড়িতদের মোবাইল কোর্টে সাজা দেওয়া হচ্ছে।” তবে অবৈধ বালু উত্তোলনের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা—জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উত্তর দেননি।