ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

আজ মহাকবি মাইকেল মধুসূদনের ২০২তম জন্মবার্ষিকী

মোঃ নূর ই আলম (কাজী নূর)ঃ

 

বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের জনক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত’র ২০২তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে বিখ্যাত দত্ত পরিবারে তার জন্ম। মাইকেল মধুসূদন দত্ত’র বাবা ছিলেন জমিদার রাজনারায়ণ দত্ত এবং মাতা জাহ্নবী দেবী।

 

উনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও নাট্যকার তথা বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় মাতা জাহ্নবী দেবীর কাছে। ১৩ বছর বয়সে তিনি কলকাতা যান এবং স্থানীয় একটি স্কুলে কিছুদিন পড়াশোনার পর তৎকালীন হিন্দু কলেজে (বর্তমানে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, ফরাসি ও সংস্কৃত ভাষায় শিক্ষালাভ করেন।

 

পরবর্তীতে তিনি কলকাতার বিশপস কলেজে অধ্যয়ন করেন। সেখানে গ্রিক, লাতিন ও সংস্কৃত ভাষা শেখেন। পরে আইনশাস্ত্রে পড়ার জন্য তিনি ইংল্যান্ডে যান।

 

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। অসাধারণ প্রতিভাধর এই কবি তাঁর সৃষ্টিশীলতায় বাংলা সাহিত্য ভাণ্ডারকে করেছেন সমৃদ্ধ থেকে সমৃদ্ধতর।

 

তার রচিত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, নাটক ‘শর্মিষ্ঠা’, ‘বুড়ো শালিকের ঘাঁড়ে রো’, ‘কৃষ্ণকুমারী’ বাংলা সাহিত্যের চিরকালীন সম্পদে পরিণত হয়েছে। প্রথমে তিনি ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায় মনোযোগী হলেও পরবর্তীতে বাংলায় সাহিত্য রচনায় ফিরে আসেন। বাংলায় রচিত তাঁর সাহিত্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

 

১৮৫৩ সালে মধুসূদন দত্ত খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। তখন থেকেই তাঁর নামের সঙ্গে ‘মাইকেল’ যুক্ত হয়। খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণের পর তাঁর মা শোকে-দুঃখে শয্যাশায়ী হন। বাবা রাজনারায়ণ দত্ত তাঁকে হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও মধুসূদন দৃঢ়ভাবে বলেন—
“যদি আকাশের চন্দ্র-সূর্য না ওঠে, যদি পূর্বের বদলে পশ্চিমে সূর্যের উদয় হয়, তবু আমি খ্রিস্টান ধর্ম পরিত্যাগ করব না।”

 

১৮৭৩ সালের ২৯ জুন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

আজ মহাকবি মাইকেল মধুসূদনের ২০২তম জন্মবার্ষিকী

আপডেট টাইম : ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
মোঃ নূর ই আলম (কাজী নূর), যশোর জেলা প্রতিনিধি :

মোঃ নূর ই আলম (কাজী নূর)ঃ

 

বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের জনক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত’র ২০২তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে বিখ্যাত দত্ত পরিবারে তার জন্ম। মাইকেল মধুসূদন দত্ত’র বাবা ছিলেন জমিদার রাজনারায়ণ দত্ত এবং মাতা জাহ্নবী দেবী।

 

উনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও নাট্যকার তথা বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় মাতা জাহ্নবী দেবীর কাছে। ১৩ বছর বয়সে তিনি কলকাতা যান এবং স্থানীয় একটি স্কুলে কিছুদিন পড়াশোনার পর তৎকালীন হিন্দু কলেজে (বর্তমানে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, ফরাসি ও সংস্কৃত ভাষায় শিক্ষালাভ করেন।

 

পরবর্তীতে তিনি কলকাতার বিশপস কলেজে অধ্যয়ন করেন। সেখানে গ্রিক, লাতিন ও সংস্কৃত ভাষা শেখেন। পরে আইনশাস্ত্রে পড়ার জন্য তিনি ইংল্যান্ডে যান।

 

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। অসাধারণ প্রতিভাধর এই কবি তাঁর সৃষ্টিশীলতায় বাংলা সাহিত্য ভাণ্ডারকে করেছেন সমৃদ্ধ থেকে সমৃদ্ধতর।

 

তার রচিত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, নাটক ‘শর্মিষ্ঠা’, ‘বুড়ো শালিকের ঘাঁড়ে রো’, ‘কৃষ্ণকুমারী’ বাংলা সাহিত্যের চিরকালীন সম্পদে পরিণত হয়েছে। প্রথমে তিনি ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায় মনোযোগী হলেও পরবর্তীতে বাংলায় সাহিত্য রচনায় ফিরে আসেন। বাংলায় রচিত তাঁর সাহিত্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

 

১৮৫৩ সালে মধুসূদন দত্ত খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। তখন থেকেই তাঁর নামের সঙ্গে ‘মাইকেল’ যুক্ত হয়। খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণের পর তাঁর মা শোকে-দুঃখে শয্যাশায়ী হন। বাবা রাজনারায়ণ দত্ত তাঁকে হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও মধুসূদন দৃঢ়ভাবে বলেন—
“যদি আকাশের চন্দ্র-সূর্য না ওঠে, যদি পূর্বের বদলে পশ্চিমে সূর্যের উদয় হয়, তবু আমি খ্রিস্টান ধর্ম পরিত্যাগ করব না।”

 

১৮৭৩ সালের ২৯ জুন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।