পিরোজপুর শহরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন ভবনে স্থাপিত এয়ার কন্ডিশনার (এসি) থেকে তামার পাইপ চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো, শহরের নড়াইলপাড়া এলাকার আসগর শেখের ছেলে হৃদয় শেখ (১৫) ও মোহাম্মদ আলী সিকদারের ছেলে তালহা সিকদার। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিরোজপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক মোল্লা রমিজ জাহান জুম্মা।
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে চুরি করা বেশ কিছু তামার পাইপ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, গত কয়েক সপ্তাহে শহরের পাড়েরহাট সড়কের চৌমুহনী এলাকায় আশপাশের কয়েকটি বাসা ও একটি ক্লিনিক থেকে অন্তত ৮টি এসির তামার পাইপ চুরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চক্রের সদস্যরা মাদকাসক্ত হওয়ায় এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।
শহরের মাল্টি কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার অনিক কান্তি রায় জানান, মাত্র দুই দিনে তাদের ক্লিনিক থেকে চারটি এসির তামার পাইপ চুরি হয়। এতে প্রতিটি এসি পুনরায় সচল করতে প্রায় আট হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। আরেক ভুক্তভোগী, পিরোজপুর জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মো. শাহ আলম জানান, কয়েকদিন আগে সকালে তার ভবনের ছাদ থেকে এসির পাইপ চুরির চেষ্টা করে এক ব্যক্তি। বিষয়টি টের পেয়ে তিনি বাধা দিলে চোরটি পালিয়ে যায়। তবে এর আগেই পাইপের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করে।
পরে এসিটি অন্যত্র স্থানান্তর করতে গিয়ে তার প্রায় ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়। চুরির ঘটনাগুলোর পর পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। এছাড়া শহরের সিআইপাড়া এলাকার ভুক্তভোগী রেখা বেগম, লোকমান সরদার ও রিকশাচালক কামরুল অভিযোগ করেন, চোরেরা ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র তছনছ করে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। পুলিশ আরও জানায়, চোরেরা এসব তামার পাইপ ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় বিক্রি করে থাকে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
প্রিন্ট

ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল 
হাসান মামুন, পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি 





















