নাঈম ইসলামঃ
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. মারুফের বিরুদ্ধে গুরুতর অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং হাসপাতালের এক নার্সের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষানবিশ চিকিৎসক এবং সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে আজ হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে শতাধিক লোক জড়ো হয়ে “অসৎ চিকিৎসকের বিচার চাই”, “নার্সদের নিরাপত্তা চাই”, “ডা. মারুফের অপসারণ চাই”—এমন নানা স্লোগান দিতে থাকে। প্রায় ১ ঘণ্টাব্যাপী চলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি। এ সময় হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, ডা. মারুফ দীর্ঘদিন ধরেই নারী সহকর্মীদের প্রতি অসদাচরণ, মানসিক হয়রানি এবং একাধিক নার্সের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন। একাধিক লিখিত অভিযোগ ও ভিডিও ফুটেজ হাসপাতাল প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
হাসপাতালের এক নারী নার্স বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছি। চিকিৎসার মতো মর্যাদাপূর্ণ পেশায় থেকে কেউ যদি এইভাবে নারীদের অপমান করে, তার আর এখানে থাকার অধিকার নেই।”
আরও অভিযোগ রয়েছে, ডা. মারুফ তার পদ-পদবি ও প্রভাব খাটিয়ে জুনিয়র নার্স ও শিক্ষানবিশদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে আগেও একাধিক মৌখিক অভিযোগ করা হয়েছিল, তবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন “চিকিৎসা পেশা শুধু একটি চাকরি নয়, এটি মানবসেবার ব্রত। কিন্তু ডা. মারুফের কর্মকাণ্ড এই পেশাকে অপমানিত করেছে। আমরা চাই, অবিলম্বে তাকে অপসারণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।”
তারা আরও জানান, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে, এমনকি কর্মবিরতিরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন কেউ কেউ।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. কামরুল হাসান বলেন,
“বিষয়টি তদন্তাধীন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ সবার জন্য নিরাপদ রাখতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর, এবং কেউই আইন ও নীতিমালার ঊর্ধ্বে নয়।
সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরাও বিষয়টিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকে বলেন, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা বিশ্বাসই করা যায় না। তারা আশা প্রকাশ করেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতালের পরিবেশ পুনরুদ্ধার করবে।
প্রিন্ট

ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল 
নাঈম ইসলাম, সদর উপজেলা (রংপুর) প্রতিনিধি 





















