ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন, এখন দুঃস্বপ্নে নন্দিতা বিশ্বাস

বাদশাহ মিয়াঃ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার নন্দিতা বিশ্বাস (১৭) এর স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে একদিন পুলিশে যোগদান করা। দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার সেই স্বপ্ন বুকে ধারণ করে চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি নিরলসভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সে।
নন্দিতা উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের কলিগ্রাম গ্রামের মৃত শ্যামলাল বিশ্বাসের বড় মেয়ে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর থেকেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে। মা ও তিন ভাইবোনের সংসারে দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী।

 

তার মা উন্নতি বিশ্বাস কলিগ্রাম মোড়ে মাসে ৪০০ টাকা ভাড়ায় একটি ঝুপড়ি ঘরে চায়ের দোকান চালিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছেন। মাকে সহযোগিতা করতে নন্দিতাও দোকানে বসে চা বিক্রি করে এবং সেখানেই সময় পেলেই পড়াশোনা করে।

 

নন্দিতা জলিরপাড় জে.কে.এম.বি. মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তার ছোট বোন একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে এবং ভাই অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করলেও আর্থিক সংকটের কারণে তাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে।

 

পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস চায়ের দোকান হওয়ায় ঠিকমতো খাবার জোটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে মা ছোট দুই সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে নন্দিতা তার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে এখনো পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছায়নি। এমনকি বিদ্যালয়ে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি থাকলেও তিন ভাইবোনের কেউই সেই সুবিধা পায়নি।

 

নন্দিতা বিশ্বাস বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন পুলিশে চাকরি করা। দেশের সেবা করার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্ব নিতে চাই। বাবাকে হারানোর পর জমিজমা কিছুই নেই। তাই বাধ্য হয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি চা বিক্রি করি। কিন্তু এতে আমাদের খরচ চলে না। মা আমার ছোট ভাইবোনের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং আমাকে পড়াশোনা ছাড়তে বলেন। কিন্তু আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।

 

নন্দিতার মা উন্নতি বিশ্বাস বলেন, আমি বিধবা ভাতা পাই, আর চা বিক্রি করে যা আয় হয়, তাতে সংসার চালানোই কঠিন। তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই দুইজনের পড়াশোনা বন্ধ করতে হয়েছে। বড় মেয়েকেও বন্ধ করতে বলেছি, কিন্তু সে রাজি হয়নি। এবার সে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। কোনো সহযোগিতা পেলে হয়তো তাদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারতাম।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নাটোরে আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ দিবস’২০২৬ উদযাপিত

error: Content is protected !!

পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন, এখন দুঃস্বপ্নে নন্দিতা বিশ্বাস

আপডেট টাইম : ১০ ঘন্টা আগে
বাদশাহ মিয়া, মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি :

বাদশাহ মিয়াঃ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার নন্দিতা বিশ্বাস (১৭) এর স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে একদিন পুলিশে যোগদান করা। দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার সেই স্বপ্ন বুকে ধারণ করে চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি নিরলসভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সে।
নন্দিতা উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের কলিগ্রাম গ্রামের মৃত শ্যামলাল বিশ্বাসের বড় মেয়ে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর থেকেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে। মা ও তিন ভাইবোনের সংসারে দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী।

 

তার মা উন্নতি বিশ্বাস কলিগ্রাম মোড়ে মাসে ৪০০ টাকা ভাড়ায় একটি ঝুপড়ি ঘরে চায়ের দোকান চালিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছেন। মাকে সহযোগিতা করতে নন্দিতাও দোকানে বসে চা বিক্রি করে এবং সেখানেই সময় পেলেই পড়াশোনা করে।

 

নন্দিতা জলিরপাড় জে.কে.এম.বি. মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তার ছোট বোন একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে এবং ভাই অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করলেও আর্থিক সংকটের কারণে তাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে।

 

পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস চায়ের দোকান হওয়ায় ঠিকমতো খাবার জোটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে মা ছোট দুই সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে নন্দিতা তার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে এখনো পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছায়নি। এমনকি বিদ্যালয়ে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি থাকলেও তিন ভাইবোনের কেউই সেই সুবিধা পায়নি।

 

নন্দিতা বিশ্বাস বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন পুলিশে চাকরি করা। দেশের সেবা করার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্ব নিতে চাই। বাবাকে হারানোর পর জমিজমা কিছুই নেই। তাই বাধ্য হয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি চা বিক্রি করি। কিন্তু এতে আমাদের খরচ চলে না। মা আমার ছোট ভাইবোনের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং আমাকে পড়াশোনা ছাড়তে বলেন। কিন্তু আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।

 

নন্দিতার মা উন্নতি বিশ্বাস বলেন, আমি বিধবা ভাতা পাই, আর চা বিক্রি করে যা আয় হয়, তাতে সংসার চালানোই কঠিন। তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই দুইজনের পড়াশোনা বন্ধ করতে হয়েছে। বড় মেয়েকেও বন্ধ করতে বলেছি, কিন্তু সে রাজি হয়নি। এবার সে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। কোনো সহযোগিতা পেলে হয়তো তাদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারতাম।


প্রিন্ট