কালিয়াকৈর প্রতিনিধি
কালিয়াকৈর সরকারি কলেজ যেন আজ আর শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়—এটি পরিণত হয়েছে প্রতিবাদের এক জীবন্ত মঞ্চে। কলেজের তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা “হয়রানিমূলক” মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী অংশ নেন। স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা—“শিক্ষক অপমান মানবো না”, “মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চাই”।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, কলেজের নিজস্ব জমিতে একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই ব্যক্তি জমিটি নিজেদের দাবি করে বাধা দেন। পরে তারা আদালতে কলেজের তিন শিক্ষককে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিক্ষকরা কোনো অপরাধী নন; তারা সমাজ গড়ার কারিগর। অথচ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কলেজের পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
একজন শিক্ষার্থী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “যে শিক্ষক আমাদের মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখান, সেই শিক্ষককে অপমান করা মানে আমাদের ভবিষ্যৎকে অপমান করা।”
বক্তারা মামলাটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান। তারা প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের আহ্বান জানান।
এ সময় বক্তারা আরও বলেন, “আজ যদি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এমন অন্যায় মামলা চলতে থাকে, তাহলে কাল শিক্ষার্থীরাও নিরাপদ থাকবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভয় নয়, চাই শান্তি ও সম্মান।”
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত মামলা প্রত্যাহার না হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন এবং বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল কলেজ চত্বর প্রদক্ষিণ করে। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এক কণ্ঠে দাবি তোলেন—“মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করো, শিক্ষকদের সম্মান ফিরিয়ে দাও।”
কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের এই প্রতিবাদ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা ঐক্যবদ্ধ এবং শিক্ষক অপমানের প্রশ্নে আপসহীন।
প্রিন্ট

ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল 
মোঃ মাহবুবুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি 


















