ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

৫ ঘণ্টায় গুনে আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ মাজারে মিলল দেড় লাখ

আব্দুল হামিদ মিঞাঃ

 

৫ ঘণ্টায় গুনে হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহ.) মাজারে প্রায় দেড় লাখ টাকা পাওয়া গেছে| মাজারের তালা খুলে টানা ৫ ঘণ্টা গণনা শেষে টাকাগুলো পাওয়া যায়|

 

মাজার কমিটি সূত্র জানায়, বৃহসপতিবার(৩০-০৪-২০২৬) দুপুরে মাজারের ভেতর থেকে টাকা সংগ্রহ করে দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত গণনা করা হয়| এতে সবচেয়ে ১০ টাকার নোট বেশি পাওয়া গেছে | নোট ও কয়েনের হিসাবে- ১০০০ টাকার নোট ৩টি, ৫০০ টাকার নোট ৩২টি, ২০০ টাকার নোট ৩৮টি, ১০০ টাকার নোট ৪৩১টি,৫০ টাকার নোট ৬২৪টি, ২০ টাকার নোট ৪৮০টি, ১০ টাকার নোট ৩৩০০টি, ৫ টাকার নোট ৩৪০টি, ২ টাকার নোট ১০০টি , ৫ টাকার কয়েন ৩০০টি | সর্বমোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকা|

ওয়াকফ এস্টেট উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম (রইশ) জানান, “বৃহসতিবার দুপুর আড়াইটায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওয়াকফ কমিটির সহ সভাপতির প্রতিনিধি ও আমার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে মাজারের তালা খুলে টাকাগুলো সংগ্রহ করা হয় এবং তাদের মাধ্যমে গণনা শেষে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়া গেছে| পুরো টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আমার মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে|

তিনি আরো জানান, সংগৃহীত অর্থ মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ, এতিমদের সহায়তা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি হিসেবে ব্যয় করা হয়| নিয়মিত হিসাব নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়|

 

তিনি আরও জানান, দেড় মাস আগে মাজারের ভেতর থেকে ৭১ হাজার ৫৩ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং দানবাক্স থেকে পাওয়া গেছে ৫৭ হাজার ৪১ টাকা| তবে বৃহস্পতিবার দান বাক্স খোলা হয়নি|

 

গণনার সময় উপস্থিত ভক্ত রেজাউল করিম বলেন, টাকাটা ভালো কাজে লাগলেই হলো|

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাজারের ভেতরে টাকার স্তূপ উপচে পড়ে আছে| বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন স্থানীয়রা| তার আগেই প্রশাসন ও কমিটি যৌথভাবে গণনার উদ্যোগ নেয় |

সুত্র জানায়,মাজারটি বাঘা হজরত শাহ দৌলা (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের অধীনে পরিচালিত| মাজার এলাকায় আরও পাঁচটি দানবাক্স রয়েছে| দানবাক্স ও মাজারের ভেতরের টাকা উত্তোলনের জন্য যৌথ হিসাবের ব্যবস্থা রয়েছে| এর চাবি থাকে কমিটির সহসভাপতি ও সদস্য সচিবের কাছে| ফলে এককভাবে কেউ ইচ্ছামতো তা খুলতে পারেন না|

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওয়াকফ কমিটির সহ সভাপতি শাম্মী আক্তার বলেন, “মাজারের আয়-ব্যয়ে  সচ্ছতা আনতে কমিটিকে নিয়মিত গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে| ওয়াকফ প্রশাসনের নিয়ম মেনে সব টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে| শিগগিরই আবার দানবাক্স খোলা হবে|’ ‘মাজারের আয়-ব্যয় সচ্ছভাবে পরিচালিত হয়| এখন থেকে প্রতি মাসে একবার করে বাক্স খুলে হিসাব করা হবে| প্রতি মাসের হিসাব আমাদের দপ্তরে দিতে হবে|”

স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় ভক্তি ও আস্থার কেন্দ্র হিসেবে এই মাজার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এখানকার দানের অর্থ সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে|

 

উল্লেখ্য, হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহ.) ও তাঁর পিতা হজরত শাহ মোয়াজ্জেম (রহ.) এই অঞ্চলের প্রখ্যাত সুফি সাধক ছিলেন| প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগে তারা ইসলাম প্রচার ও মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করেন| বর্তমানে তাদের মাজার বাঘার অন্যতম ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত|


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলাহাটে ২১শে পদকপ্রাপ্ত জিয়াউল হকের জীবন কাহিনী

error: Content is protected !!

৫ ঘণ্টায় গুনে আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ মাজারে মিলল দেড় লাখ

আপডেট টাইম : ১৬ ঘন্টা আগে
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আব্দুল হামিদ মিঞাঃ

 

৫ ঘণ্টায় গুনে হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহ.) মাজারে প্রায় দেড় লাখ টাকা পাওয়া গেছে| মাজারের তালা খুলে টানা ৫ ঘণ্টা গণনা শেষে টাকাগুলো পাওয়া যায়|

 

মাজার কমিটি সূত্র জানায়, বৃহসপতিবার(৩০-০৪-২০২৬) দুপুরে মাজারের ভেতর থেকে টাকা সংগ্রহ করে দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত গণনা করা হয়| এতে সবচেয়ে ১০ টাকার নোট বেশি পাওয়া গেছে | নোট ও কয়েনের হিসাবে- ১০০০ টাকার নোট ৩টি, ৫০০ টাকার নোট ৩২টি, ২০০ টাকার নোট ৩৮টি, ১০০ টাকার নোট ৪৩১টি,৫০ টাকার নোট ৬২৪টি, ২০ টাকার নোট ৪৮০টি, ১০ টাকার নোট ৩৩০০টি, ৫ টাকার নোট ৩৪০টি, ২ টাকার নোট ১০০টি , ৫ টাকার কয়েন ৩০০টি | সর্বমোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকা|

ওয়াকফ এস্টেট উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম (রইশ) জানান, “বৃহসতিবার দুপুর আড়াইটায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওয়াকফ কমিটির সহ সভাপতির প্রতিনিধি ও আমার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে মাজারের তালা খুলে টাকাগুলো সংগ্রহ করা হয় এবং তাদের মাধ্যমে গণনা শেষে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়া গেছে| পুরো টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আমার মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে|

তিনি আরো জানান, সংগৃহীত অর্থ মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ, এতিমদের সহায়তা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি হিসেবে ব্যয় করা হয়| নিয়মিত হিসাব নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়|

 

তিনি আরও জানান, দেড় মাস আগে মাজারের ভেতর থেকে ৭১ হাজার ৫৩ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং দানবাক্স থেকে পাওয়া গেছে ৫৭ হাজার ৪১ টাকা| তবে বৃহস্পতিবার দান বাক্স খোলা হয়নি|

 

গণনার সময় উপস্থিত ভক্ত রেজাউল করিম বলেন, টাকাটা ভালো কাজে লাগলেই হলো|

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাজারের ভেতরে টাকার স্তূপ উপচে পড়ে আছে| বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন স্থানীয়রা| তার আগেই প্রশাসন ও কমিটি যৌথভাবে গণনার উদ্যোগ নেয় |

সুত্র জানায়,মাজারটি বাঘা হজরত শাহ দৌলা (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের অধীনে পরিচালিত| মাজার এলাকায় আরও পাঁচটি দানবাক্স রয়েছে| দানবাক্স ও মাজারের ভেতরের টাকা উত্তোলনের জন্য যৌথ হিসাবের ব্যবস্থা রয়েছে| এর চাবি থাকে কমিটির সহসভাপতি ও সদস্য সচিবের কাছে| ফলে এককভাবে কেউ ইচ্ছামতো তা খুলতে পারেন না|

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওয়াকফ কমিটির সহ সভাপতি শাম্মী আক্তার বলেন, “মাজারের আয়-ব্যয়ে  সচ্ছতা আনতে কমিটিকে নিয়মিত গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে| ওয়াকফ প্রশাসনের নিয়ম মেনে সব টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে| শিগগিরই আবার দানবাক্স খোলা হবে|’ ‘মাজারের আয়-ব্যয় সচ্ছভাবে পরিচালিত হয়| এখন থেকে প্রতি মাসে একবার করে বাক্স খুলে হিসাব করা হবে| প্রতি মাসের হিসাব আমাদের দপ্তরে দিতে হবে|”

স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় ভক্তি ও আস্থার কেন্দ্র হিসেবে এই মাজার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এখানকার দানের অর্থ সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে|

 

উল্লেখ্য, হজরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহ.) ও তাঁর পিতা হজরত শাহ মোয়াজ্জেম (রহ.) এই অঞ্চলের প্রখ্যাত সুফি সাধক ছিলেন| প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগে তারা ইসলাম প্রচার ও মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করেন| বর্তমানে তাদের মাজার বাঘার অন্যতম ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত|


প্রিন্ট