ঢাকা , বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থানার হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও মরদেহের বিচ্ছিন্ন মস্তক উদ্ধার

মোঃ আমজাদ আলীঃ

 

গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি. ফুলবাড়ী থানার কাজিহাল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের একটি ধান ক্ষেতের ডোবায় একটি মস্তক বিহিন খন্ডিত মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা ফুলবাড়ী থানা পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল যায় এবং ঘটনাস্থল থেকে দ্বি-খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন মরদেহের শরীরের একটি বিশেষ চিহ্ন দেখে মরদেহটি সাব্বির হোসেন সবুজের বলে পরিচয় সনাক্ত করে। নিহত সাব্বির হোসেন সবুজ ফুলবাড়ী উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের মৃত ইবনে সাউদ সরকারের ছেলে।

 

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি. বেলা ১১টায় আটপুকুরহাট ব্যাংকে যাওয়ার কথা বলে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সবুজ। তারপর থেকে সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে বাড়ির লোকজন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তার কোন সন্ধান পাননি। পরেরদিন বুধবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি. তার পরিবারের লোকজন ফুলবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ডিসিস্ট এর ভাই মোঃ সাদেক হাসান সজিব ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামী করে ফুলবাড়ী থানায় এজাহার দায়ের করে।

 

এ ঘটনার পরপরেই দিনাজপুর জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোঃ মারুফাত হুসাইন এর দিক-নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্), মোঃ আনোয়ার হোসেন এর সার্বিক তত্বাবধানে অফিসার ইনচার্জ ফুলবাড়ী এর নেতৃত্বে দিনাজপুর পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে এজাহারনামীয় ০৫ (পাঁচ) জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে এজাহারনামীয় ৬ নং আসামি মোঃ আব্দুর হামেদ (৫৮) কে তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

 

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুর হামেদ (৫৮) হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে অদ্য ১৮ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি. পুলিশ সুপার দিনাজপুর মোঃ মারুফাত হুসাইনের নেতৃত্বে ফুলবাড়ী থানার কাজিহাল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের ধানের জমিতে সেচ দেওয়া বরেন্দ্র গভীর নলকূপের পাইপের ভেতর থেকে মরদেহের বিচ্ছিন্ন মস্তক উদ্ধারসহ আসামির নিজ বসতবাড়ী থেকে তার দেখানো স্থান থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কোদালও হাসুয়া উদ্ধার করা হয়।

 

ঘটনার বিবরনে জানা যায়- আসামী মোঃ আব্দুর হামেদ (৫৮) ২০০৫ সাল থেকে নিহত সাব্বির হোসেন সবুজের বাড়িতে কাজ করতেন এবং দীর্ঘদিন কাজেসার্থে তাদের সাথে সু-সম্পর্ক তৈরী হয়। ঘটনার দিন (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি.) সবুজ নিজ জমিতে আগাছা পরিষ্কারের কাজে আব্দুর হামেদকে নিয়ে যান। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির সৃষ্টি হলে আব্দুর হামেদ কোদাল দিয়ে সবুজের মাথায় আঘাত করেন, এতে সবুজ ঘটনাস্থলেই মারা যান।

 

হত্যার পর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে আসামী প্রথমে মরদেহটি ঘাস দিয়ে ঢেকে রাখেন, পরে পুকুরে ডুবিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে মরদেহটি তিন টুকরা করে তার মধ্যে দুই টুকরা রশিদপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেতের ডোবায় বস্তায় ভরে পুঁতে রাখেন এবং বিচ্ছিন্ন মস্তক পাশের বরেন্দ্র গভীর নলকূপের পাইপের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নাটোরে আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ দিবস’২০২৬ উদযাপিত

error: Content is protected !!

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থানার হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও মরদেহের বিচ্ছিন্ন মস্তক উদ্ধার

আপডেট টাইম : ০৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
মোঃ আমজাদ আলী, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি :

মোঃ আমজাদ আলীঃ

 

গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি. ফুলবাড়ী থানার কাজিহাল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের একটি ধান ক্ষেতের ডোবায় একটি মস্তক বিহিন খন্ডিত মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা ফুলবাড়ী থানা পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল যায় এবং ঘটনাস্থল থেকে দ্বি-খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন মরদেহের শরীরের একটি বিশেষ চিহ্ন দেখে মরদেহটি সাব্বির হোসেন সবুজের বলে পরিচয় সনাক্ত করে। নিহত সাব্বির হোসেন সবুজ ফুলবাড়ী উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের মৃত ইবনে সাউদ সরকারের ছেলে।

 

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি. বেলা ১১টায় আটপুকুরহাট ব্যাংকে যাওয়ার কথা বলে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সবুজ। তারপর থেকে সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে বাড়ির লোকজন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তার কোন সন্ধান পাননি। পরেরদিন বুধবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি. তার পরিবারের লোকজন ফুলবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ডিসিস্ট এর ভাই মোঃ সাদেক হাসান সজিব ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামী করে ফুলবাড়ী থানায় এজাহার দায়ের করে।

 

এ ঘটনার পরপরেই দিনাজপুর জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোঃ মারুফাত হুসাইন এর দিক-নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্), মোঃ আনোয়ার হোসেন এর সার্বিক তত্বাবধানে অফিসার ইনচার্জ ফুলবাড়ী এর নেতৃত্বে দিনাজপুর পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে এজাহারনামীয় ০৫ (পাঁচ) জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে এজাহারনামীয় ৬ নং আসামি মোঃ আব্দুর হামেদ (৫৮) কে তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

 

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুর হামেদ (৫৮) হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে অদ্য ১৮ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি. পুলিশ সুপার দিনাজপুর মোঃ মারুফাত হুসাইনের নেতৃত্বে ফুলবাড়ী থানার কাজিহাল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের ধানের জমিতে সেচ দেওয়া বরেন্দ্র গভীর নলকূপের পাইপের ভেতর থেকে মরদেহের বিচ্ছিন্ন মস্তক উদ্ধারসহ আসামির নিজ বসতবাড়ী থেকে তার দেখানো স্থান থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কোদালও হাসুয়া উদ্ধার করা হয়।

 

ঘটনার বিবরনে জানা যায়- আসামী মোঃ আব্দুর হামেদ (৫৮) ২০০৫ সাল থেকে নিহত সাব্বির হোসেন সবুজের বাড়িতে কাজ করতেন এবং দীর্ঘদিন কাজেসার্থে তাদের সাথে সু-সম্পর্ক তৈরী হয়। ঘটনার দিন (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি.) সবুজ নিজ জমিতে আগাছা পরিষ্কারের কাজে আব্দুর হামেদকে নিয়ে যান। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির সৃষ্টি হলে আব্দুর হামেদ কোদাল দিয়ে সবুজের মাথায় আঘাত করেন, এতে সবুজ ঘটনাস্থলেই মারা যান।

 

হত্যার পর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে আসামী প্রথমে মরদেহটি ঘাস দিয়ে ঢেকে রাখেন, পরে পুকুরে ডুবিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে মরদেহটি তিন টুকরা করে তার মধ্যে দুই টুকরা রশিদপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেতের ডোবায় বস্তায় ভরে পুঁতে রাখেন এবং বিচ্ছিন্ন মস্তক পাশের বরেন্দ্র গভীর নলকূপের পাইপের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন।


প্রিন্ট