ঢাকা , রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ যুগ ধরে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

আসাদুর রহমান হাবিবঃ

 

দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান এক যুগ ধরে উপজেলার সমাজসেবা অধিদপ্তরের সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা এমন অভিযোগ উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এনজিও সহ সমাজ সেবকদের।

 

ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান সাবেক আওয়ামীলীগ সরকারের শাসন আমলের ১১ বছর ও অন্তবর্তীকালিন সরকারের ১ বছরসহ মোট ১২ বছর ধরে ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

সমাজসেবা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান দির্ঘ ১২ বছর ধরে ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবার দায়িত্বে থেকে স্থানীয় নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণদের সাথে সক্ষমতা তৈরী করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সুবিধাভোগিদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা এমন অভিযোগ উঠেছে সমাজসেবা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান এর বিরুদ্ধে।

 

সমাজসেবা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান সাবেক আওয়ামীলীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী মরহুম এ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমানের বিগত ১১ বছর ধরে তাঁর আস্থাভাজন ও অনুগত ছিলেন এমন মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

 

সেই সময় আওয়ামীলীগের মনোনিত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানদের আবদার মেটাতে ও তাদের সানিধ্যে থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের এলাকায় যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা ক্যাপিটেশন গ্রান্টের জন্য আবেদন করে তাঁদের যাচাই বাচাই ছাড়াই কৌশল অবলম্বন করে নিবন্ধনের সুযোগ করে দেন।

 

ক্যাপিটেশন গ্রান্ট পাওয়া বিভিন্ন মাদ্রাসাগুলোতে খোঁজ নিয়ে মেলেনি অসহায়,দুস্থ্য,এতিমদের সঠিক হিসাব।

 

অনেক মাদ্রসায় ৮৭ জন এতিম দুস্থ্যদের ক্যাপিটেশন উত্তোলন করা হলেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম এমন অবস্থা উপজেলার অধিকাংশ ক্যাপিটেশন গ্রান্ট পাওয়া মাদ্রসাগুলোতে।

 

এ বিষয়ে মাদ্রাসা কমিটিগুলোর সাথে কথা বললে অনেকেই বলতে অনিচ্ছুক আবার অনেকেই অভিযোগ করে বলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নিজেই আমাদের বলেছেন যে শিক্ষার্থী বাড়িয়ে দিয়ে ক্যাপিটেশন বাড়িয়ে নেন এতে আপনাদের লাভ হবে।

 

এমন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যা এতিম দুঃস্থ অসহায়দের নাম বাড়িয়ে ভাগাভাগি হয় আড়ালে।

 

মাদিলাহাট আল-হেরা জামিয়াতুল হোসাইনিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানায় দেখা গেছে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ৮৪ জন এতিম,দুস্থ্যদের ক্যাপিটেশনের টাকা উত্তোলন করা হয়,সেই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যাও অর্ধেক।

 

চৌরাইট মহেশপুর হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক জানান মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ থেকে ১৮ জন,ঐ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মকসেদ আলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৬ জন কিন্তু ক্যাপিটেশনের টাকা তুলছেন ৪০ জনের।

 

জামিয়াতুল আবরার আশরাফুল উলুম হাফেজিয়া লিল্লাহ বোডিং ও এতিমখানা মাদ্রাসায় দেখা গেছে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট থাকা স্বত্বেও যোগসাজশে ক্যাপিটেশন তালিকা ভুক্ত শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাছ থেকে মাসে ২ হাজার টাকা বেতন নেয়া হয়,এছাড়াও পরীক্ষার ফি,ভর্তি ফিসহ অন্যান্য বিদ্যুৎ বিল পর্যন্ত আদায় করা হয় ঐ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাছ থেকে।

 

জামিয়াতুল আবরার আশরাফুল উলুম হাফেজিয়া লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানার শিক্ষার্থীর অভিভাবক আলতাফ হোসেন জানান মাদ্রাসাটির ক্যাপিটেশন গ্রান্ট থাকা সত্ত্বেও আমার বাচ্চার খাবারের জন্য প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা নেয়া হয় এবং এই মাদ্রাসার সব শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের প্রতি মাসে ২ হাজার করে টাকা দিতে হয়।

 

উত্তর লক্ষিপুর মাদ্রসা কমিটির সাবেক সদস্য মিনহাজ বলেন,আমার জানা মতে ৭ থেকে ৯ জন শিক্ষার্থী দিয়ে আমাদের মাদ্রসার ক্যাপিটেশন গ্রান্ট চালু করা হয় সেই সময় সমাজসেবা কর্মকর্তা আমাদের বলেছিলো শিক্ষার্থী বাড়িয়ে দেন আর সুবিধা বেশি গ্রহন করেন।

 

সামাজসেবা থেকে নিবন্ধিত এনজিও এফডিও কে সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের জামাইকে হস্তান্তর করতে বাধ্য করেন ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান এমন অভিযোগ করেন এফডিও এনজিওর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম।

 

সম্মিলিত নাগরিক সমাজের আহবায়ক মোঃ হামিদুল হক বলেন,আমরা বিভিন্ন ভাবে জানতে পেরেছি ফুলবাড়ী উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রায় ১২ বছর যাবৎ এই উপজেলায় কর্মরত থাকায় সাবেক মন্ত্রীর সহযোগি হিসাবে অনেক অন্যায় অনিয়ম করেছে আমরা তার প্রত্যাহার দাবি করছি।

 

এবিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান এর সাথে কথা বলতে গেলে তিনি মিডিয়ার সামনে কোন কথা বলবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

 

সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল মতিন এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন ক্যাপিটেশন গ্রান্ট কোন প্রতিষ্ঠান পাবে তাঁর তদন্ত সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা দিয়ে থাকে আমরা তার সুপারিশে অনুমোদন দিয়ে থাকি।

 

তিনি আরও বলেন ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের বিরুদ্ধে কোন অনিয়োম দুর্নীতি পাওয়া গেলে আমরা বিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

বেতদিঘি ইউনিয়নের আল-হেরা মাদ্রসা,চৌরাইট মাদ্রাসা,রুদ্রানি মাদ্রাসা,লক্ষিপুর মাদ্রাসা,ভিমলপুর মাদ্রাসা কড়াইপাড়া মাদ্রাসা,কানাহার মাদ্রসাসহ উপজেলার ক্যাপিটেশন পাওয়া সকল মাদ্রসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের সংখ্যার চেয়ে ক্যাপিটেশন শিক্ষার্থী তালিকায় সংখ্যা বেশি দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে এতিম দুঃস্থ অসহায়দের সহায়তা করা সরকারী অনুদানের টাকা।

 

এ বিষয়ে বেতদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান আল হেরা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ৫ আগস্টের আগে কি করেছে জানিনা তবে এরপর অনেক অনুষ্ঠান করলেও আমাকে কোনদিন জানানো হয়নি।

 

এছাড়াও সাবেক আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে চেয়ারম্যানগণদের যোগ সাজসে দুঃস্থ অসহায় অনেককে বিধবা ভাতা,প্রতিবন্ধী ভাতা,বয়স্ক ভাতা কার্ড সিলেকশন ও ক্লাব সংস্থার রেজিস্ট্রেশনসহ চিকিৎসা অনুদানের টাকার কমিশন বানিজ্য করার মতো অনেক অপরাধ সংগঠিত সহ টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা অফিসে এমনও অভিযোগ ও করেন অনেকে।

 

দীর্ঘ ১২ বছর ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি চালিয়ে আসছে ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকারী তহবিল ও প্রকৃত সুবিধাভোগীরা তাই অনতিবিলম্বে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী বিভিন্ন মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এনজিও সমাজসেবক ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলাহাটে ২১শে পদকপ্রাপ্ত জিয়াউল হকের জীবন কাহিনী

error: Content is protected !!

ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ যুগ ধরে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আসাদুর রহমান হাবিব, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

আসাদুর রহমান হাবিবঃ

 

দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান এক যুগ ধরে উপজেলার সমাজসেবা অধিদপ্তরের সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা এমন অভিযোগ উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এনজিও সহ সমাজ সেবকদের।

 

ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান সাবেক আওয়ামীলীগ সরকারের শাসন আমলের ১১ বছর ও অন্তবর্তীকালিন সরকারের ১ বছরসহ মোট ১২ বছর ধরে ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

সমাজসেবা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান দির্ঘ ১২ বছর ধরে ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবার দায়িত্বে থেকে স্থানীয় নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণদের সাথে সক্ষমতা তৈরী করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সুবিধাভোগিদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা এমন অভিযোগ উঠেছে সমাজসেবা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান এর বিরুদ্ধে।

 

সমাজসেবা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান সাবেক আওয়ামীলীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী মরহুম এ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমানের বিগত ১১ বছর ধরে তাঁর আস্থাভাজন ও অনুগত ছিলেন এমন মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

 

সেই সময় আওয়ামীলীগের মনোনিত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানদের আবদার মেটাতে ও তাদের সানিধ্যে থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের এলাকায় যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা ক্যাপিটেশন গ্রান্টের জন্য আবেদন করে তাঁদের যাচাই বাচাই ছাড়াই কৌশল অবলম্বন করে নিবন্ধনের সুযোগ করে দেন।

 

ক্যাপিটেশন গ্রান্ট পাওয়া বিভিন্ন মাদ্রাসাগুলোতে খোঁজ নিয়ে মেলেনি অসহায়,দুস্থ্য,এতিমদের সঠিক হিসাব।

 

অনেক মাদ্রসায় ৮৭ জন এতিম দুস্থ্যদের ক্যাপিটেশন উত্তোলন করা হলেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম এমন অবস্থা উপজেলার অধিকাংশ ক্যাপিটেশন গ্রান্ট পাওয়া মাদ্রসাগুলোতে।

 

এ বিষয়ে মাদ্রাসা কমিটিগুলোর সাথে কথা বললে অনেকেই বলতে অনিচ্ছুক আবার অনেকেই অভিযোগ করে বলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নিজেই আমাদের বলেছেন যে শিক্ষার্থী বাড়িয়ে দিয়ে ক্যাপিটেশন বাড়িয়ে নেন এতে আপনাদের লাভ হবে।

 

এমন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যা এতিম দুঃস্থ অসহায়দের নাম বাড়িয়ে ভাগাভাগি হয় আড়ালে।

 

মাদিলাহাট আল-হেরা জামিয়াতুল হোসাইনিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানায় দেখা গেছে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ৮৪ জন এতিম,দুস্থ্যদের ক্যাপিটেশনের টাকা উত্তোলন করা হয়,সেই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যাও অর্ধেক।

 

চৌরাইট মহেশপুর হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক জানান মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ থেকে ১৮ জন,ঐ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মকসেদ আলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৬ জন কিন্তু ক্যাপিটেশনের টাকা তুলছেন ৪০ জনের।

 

জামিয়াতুল আবরার আশরাফুল উলুম হাফেজিয়া লিল্লাহ বোডিং ও এতিমখানা মাদ্রাসায় দেখা গেছে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট থাকা স্বত্বেও যোগসাজশে ক্যাপিটেশন তালিকা ভুক্ত শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাছ থেকে মাসে ২ হাজার টাকা বেতন নেয়া হয়,এছাড়াও পরীক্ষার ফি,ভর্তি ফিসহ অন্যান্য বিদ্যুৎ বিল পর্যন্ত আদায় করা হয় ঐ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাছ থেকে।

 

জামিয়াতুল আবরার আশরাফুল উলুম হাফেজিয়া লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানার শিক্ষার্থীর অভিভাবক আলতাফ হোসেন জানান মাদ্রাসাটির ক্যাপিটেশন গ্রান্ট থাকা সত্ত্বেও আমার বাচ্চার খাবারের জন্য প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা নেয়া হয় এবং এই মাদ্রাসার সব শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের প্রতি মাসে ২ হাজার করে টাকা দিতে হয়।

 

উত্তর লক্ষিপুর মাদ্রসা কমিটির সাবেক সদস্য মিনহাজ বলেন,আমার জানা মতে ৭ থেকে ৯ জন শিক্ষার্থী দিয়ে আমাদের মাদ্রসার ক্যাপিটেশন গ্রান্ট চালু করা হয় সেই সময় সমাজসেবা কর্মকর্তা আমাদের বলেছিলো শিক্ষার্থী বাড়িয়ে দেন আর সুবিধা বেশি গ্রহন করেন।

 

সামাজসেবা থেকে নিবন্ধিত এনজিও এফডিও কে সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের জামাইকে হস্তান্তর করতে বাধ্য করেন ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান এমন অভিযোগ করেন এফডিও এনজিওর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম।

 

সম্মিলিত নাগরিক সমাজের আহবায়ক মোঃ হামিদুল হক বলেন,আমরা বিভিন্ন ভাবে জানতে পেরেছি ফুলবাড়ী উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রায় ১২ বছর যাবৎ এই উপজেলায় কর্মরত থাকায় সাবেক মন্ত্রীর সহযোগি হিসাবে অনেক অন্যায় অনিয়ম করেছে আমরা তার প্রত্যাহার দাবি করছি।

 

এবিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান এর সাথে কথা বলতে গেলে তিনি মিডিয়ার সামনে কোন কথা বলবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

 

সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল মতিন এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন ক্যাপিটেশন গ্রান্ট কোন প্রতিষ্ঠান পাবে তাঁর তদন্ত সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা দিয়ে থাকে আমরা তার সুপারিশে অনুমোদন দিয়ে থাকি।

 

তিনি আরও বলেন ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের বিরুদ্ধে কোন অনিয়োম দুর্নীতি পাওয়া গেলে আমরা বিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

বেতদিঘি ইউনিয়নের আল-হেরা মাদ্রসা,চৌরাইট মাদ্রাসা,রুদ্রানি মাদ্রাসা,লক্ষিপুর মাদ্রাসা,ভিমলপুর মাদ্রাসা কড়াইপাড়া মাদ্রাসা,কানাহার মাদ্রসাসহ উপজেলার ক্যাপিটেশন পাওয়া সকল মাদ্রসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের সংখ্যার চেয়ে ক্যাপিটেশন শিক্ষার্থী তালিকায় সংখ্যা বেশি দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে এতিম দুঃস্থ অসহায়দের সহায়তা করা সরকারী অনুদানের টাকা।

 

এ বিষয়ে বেতদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান আল হেরা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ৫ আগস্টের আগে কি করেছে জানিনা তবে এরপর অনেক অনুষ্ঠান করলেও আমাকে কোনদিন জানানো হয়নি।

 

এছাড়াও সাবেক আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে চেয়ারম্যানগণদের যোগ সাজসে দুঃস্থ অসহায় অনেককে বিধবা ভাতা,প্রতিবন্ধী ভাতা,বয়স্ক ভাতা কার্ড সিলেকশন ও ক্লাব সংস্থার রেজিস্ট্রেশনসহ চিকিৎসা অনুদানের টাকার কমিশন বানিজ্য করার মতো অনেক অপরাধ সংগঠিত সহ টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা অফিসে এমনও অভিযোগ ও করেন অনেকে।

 

দীর্ঘ ১২ বছর ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি চালিয়ে আসছে ফুলবাড়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকারী তহবিল ও প্রকৃত সুবিধাভোগীরা তাই অনতিবিলম্বে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী বিভিন্ন মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এনজিও সমাজসেবক ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের।


প্রিন্ট