ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

১১ বছরেও চালু হয়নি ৫০ শয্যার কার্যক্রম

৩১ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি ৯৫ রোগী, চিকিৎসা সেবা ব্যহত

মো. কামরুল হাসানঃ

বেড সংকট, দুরাগত রোগীর ঢলে বীভৎস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে হাসপাতালটিতে। কাগজে কলমে এটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলেও বাস্তবে দেখা গেছে মাত্র ৩১ শয্যা। অথচ ২০ আগস্ট বুধবার দুপুর পর্যন্তু সেখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫ জন। বেডের চয়ে কয়েকগুন রোগী বেশী হওয়ায় তারা ঠাঁই নিয়েছেন বারান্দায়, সিঁড়ি, এমনকি বাথরুমের সামনেও।

 

বুধবার দুপুরে সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় ৩১ শয্যার বিপরীতে বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তার ও নার্সরা। কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স চম্পা খাতুন বলেন, “রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে আমরাই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি, আমাদের হাসপাতালে যে জনবল থাকা দরকার তার তুলনায় অর্ধেকেরও কম জনবল নিয়ে আমাদেও কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে ।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১১ বছর আগে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাড়তি জনবল, বেড, খাবার সরবরাহ কিংবা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এখনো দেওয়া হয়নি। বাড়তি ১৯ শয্যার জন্য থাকার কথা ছিল ১৬ জন চিকিৎসক, ১২ জন অফিস স্টাফ, ৪ জন পরিচ্ছন্নকর্মী, ২০টি বেড ও ৫০ রোগীর খাবার বরাদ্দ। কিন্তু এ প্রর্যন্তু একজন চিকিৎসকও যোগ দেননি এখানে। অফিস স্টাফ ও পরিচ্ছন্নকর্মী না থাকায় সীমাহীন সংকটে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম।

 

বর্তমানে এখানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬জন চিকিৎসক। এর মধ্যে ৩ জন আছেন ডেপুটেশনে এবং একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। ৩জন কনসালটেন্ট থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র একজন। ৬ জন পরিচ্ছন্নকর্মীর স্থলে কাজ করছেন কেবল একজন আউটসোর্সিং হিসেবে।

 

হাসপাতালে সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় কোনো ধরনের অপারেশন করা যাচ্ছে না। ফলে প্রসূতি মায়েদের সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গেই পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে অন্য হাসপাতালে বা প্রাইভেট ক্লিনিকে। এতে গরিব পরিবারগুলো পড়ছে চরম বিপাকে।

 

প্রসূতি সেবা নিতে আসা সৈয়েদা মুনিয়া রহমান বলেন, “সিজারের কোনো ব্যবস্থা নেই। সামান্য জটিলতাতেই অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ কারণে আমাদেও মত সাধারন রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

 

চিকিৎসা নিতে আসা ফয়সাল হায়দার, গফুর শেখ, আছিয়া ও আম্বিয়াসহ আরো অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, “বেড নেই, তাই মেঝেতেই শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।” খাবারের সংকটও ভয়াবহ। প্রতিদিনই অনেকে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অন্য হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

প্রবীণ আরেক রোগী মোখলেছুর রহমান বলেন, “আমি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ তবু হাসপাতালে যাচ্ছি ড়না শুধুমাত্র মেঝেতে শুতে হবে বলে, বেডের ব্যবস্থা না থাকার কারণে বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিচ্ছি ।

 

মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী আবু আহসান বলেন, “যে চিকিৎসক থাকা প্রয়োজন সে অনুযায়ী চিকিৎসক নেই, পর্যাপ্ত বেড নেই, পরিচ্ছন্নকর্মী নেই, যথাযথ খাবার ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থায় রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক সংকট নিরসন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন না হলে সাধারণ মানুষকে মানসম্মত সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও দীর্ঘ ১১ বছরেও প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম না আসায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলাহাটে ২১শে পদকপ্রাপ্ত জিয়াউল হকের জীবন কাহিনী

error: Content is protected !!

মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

১১ বছরেও চালু হয়নি ৫০ শয্যার কার্যক্রম

আপডেট টাইম : ০৬:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
মোঃ কামরুল হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি :

মো. কামরুল হাসানঃ

বেড সংকট, দুরাগত রোগীর ঢলে বীভৎস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে হাসপাতালটিতে। কাগজে কলমে এটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলেও বাস্তবে দেখা গেছে মাত্র ৩১ শয্যা। অথচ ২০ আগস্ট বুধবার দুপুর পর্যন্তু সেখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫ জন। বেডের চয়ে কয়েকগুন রোগী বেশী হওয়ায় তারা ঠাঁই নিয়েছেন বারান্দায়, সিঁড়ি, এমনকি বাথরুমের সামনেও।

 

বুধবার দুপুরে সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় ৩১ শয্যার বিপরীতে বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তার ও নার্সরা। কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স চম্পা খাতুন বলেন, “রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে আমরাই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি, আমাদের হাসপাতালে যে জনবল থাকা দরকার তার তুলনায় অর্ধেকেরও কম জনবল নিয়ে আমাদেও কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে ।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১১ বছর আগে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাড়তি জনবল, বেড, খাবার সরবরাহ কিংবা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এখনো দেওয়া হয়নি। বাড়তি ১৯ শয্যার জন্য থাকার কথা ছিল ১৬ জন চিকিৎসক, ১২ জন অফিস স্টাফ, ৪ জন পরিচ্ছন্নকর্মী, ২০টি বেড ও ৫০ রোগীর খাবার বরাদ্দ। কিন্তু এ প্রর্যন্তু একজন চিকিৎসকও যোগ দেননি এখানে। অফিস স্টাফ ও পরিচ্ছন্নকর্মী না থাকায় সীমাহীন সংকটে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম।

 

বর্তমানে এখানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬জন চিকিৎসক। এর মধ্যে ৩ জন আছেন ডেপুটেশনে এবং একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। ৩জন কনসালটেন্ট থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র একজন। ৬ জন পরিচ্ছন্নকর্মীর স্থলে কাজ করছেন কেবল একজন আউটসোর্সিং হিসেবে।

 

হাসপাতালে সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় কোনো ধরনের অপারেশন করা যাচ্ছে না। ফলে প্রসূতি মায়েদের সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গেই পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে অন্য হাসপাতালে বা প্রাইভেট ক্লিনিকে। এতে গরিব পরিবারগুলো পড়ছে চরম বিপাকে।

 

প্রসূতি সেবা নিতে আসা সৈয়েদা মুনিয়া রহমান বলেন, “সিজারের কোনো ব্যবস্থা নেই। সামান্য জটিলতাতেই অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ কারণে আমাদেও মত সাধারন রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

 

চিকিৎসা নিতে আসা ফয়সাল হায়দার, গফুর শেখ, আছিয়া ও আম্বিয়াসহ আরো অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, “বেড নেই, তাই মেঝেতেই শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।” খাবারের সংকটও ভয়াবহ। প্রতিদিনই অনেকে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অন্য হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

প্রবীণ আরেক রোগী মোখলেছুর রহমান বলেন, “আমি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ তবু হাসপাতালে যাচ্ছি ড়না শুধুমাত্র মেঝেতে শুতে হবে বলে, বেডের ব্যবস্থা না থাকার কারণে বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিচ্ছি ।

 

মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী আবু আহসান বলেন, “যে চিকিৎসক থাকা প্রয়োজন সে অনুযায়ী চিকিৎসক নেই, পর্যাপ্ত বেড নেই, পরিচ্ছন্নকর্মী নেই, যথাযথ খাবার ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থায় রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক সংকট নিরসন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন না হলে সাধারণ মানুষকে মানসম্মত সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও দীর্ঘ ১১ বছরেও প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম না আসায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।


প্রিন্ট