প্রত্যক্ষদর্শী ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের সূর্যমনি গ্রামের বাবুল সরদারের বড় ছেলে বাউফল নবারুন সার্ভে ইনস্টিটিউটের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র সজীব একটি পুরনো জংধরা পিস্তল নিয়ে নাড়াচাড়া করতে গিয়ে হঠাৎ ট্রিগারে চাপ পড়ে একটি গুলি তার প্রতিবন্ধী ছোট ভাই সাব্বিরের কপালের বাম পাশে চোখের ওপর গিয়ে বিদ্ধ হয়। স্বজনরা তাকে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। কিন্তু পরিবারের লোকজন ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সাব্বির বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে বলে প্রচার করে।

.

.

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নুরজাহান বলেন, সাব্বিরকে আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনার পর তার কপালে বাম চোখের ওপর একটি ছিদ্র দিয়ে রক্ত বের হতে দেখি। তখন রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। ওই সময় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করি।

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্বজন বলেন, ওইদিন বিকেলে সাব্বিরকে নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক গুলিবিদ্ধর বিষয়টি জানতে পেরে তাকে ঢাকা নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে রেফার করেন। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হলে রাত ১টার দিকে সে মারা যায়।

 

এ ব্যাপারে সূর্যমনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি। ঘটনাটি আমি জেনেছি। খুবই বেদনাদায়ক। আমি চাই প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসুক।

 

 

এ ব্যাপারে বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত সাব্বিরের বড় ভাই সজীবকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।