ফরিদপুরের মধুখালীতে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে বাবা-ছেলেকে পাশবিক নির্যাতনে জড়িত সেই রুমাকে (৩৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার দুই মাস পরে মধুখালীর মাঝকান্দি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার (১৭ মে) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) শেখ মো. আব্দুল্লাহ বিন কালাম। গ্রেফতার রুমা মাঝকান্দির জনৈক নাজিম উদ্দীনের মেয়ে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের একটি দল। বুধবার তার সাতদিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, গ্রেফতার এড়াতে গত দুইমাস দেশের পাঁচটি জেলার অগনিতস্থানে আত্মগোপনে ছিলো রুমা। নিকটাত্মীয় স্বজন ছাড়াও সে পরিচিতজনদের বাসাতেও অবস্থান করে। তবে রুমা জানায়, ঢাকার খিলক্ষেতে বোনের বাড়িতে পালিয়ে ছিলো সে।
১৭ মার্চ ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয় কামারখালী ইউনিয়নের সালামতপুর (বর্তমান রউফনগর) গ্রামের ইয়ামিন মৃধা রাজু (৪০) ও তার ছেলে রাজন মৃধাকে (১৫)। নদী ভাঙনে ভিটামাটি হারিয়ে প্রায় ১২ বছর তারা মাঝকান্দি গ্রামে মো. সালাম শেখের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া নিজের ৮ বছরের সৎ মেয়ে ও বোনকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বাবা ইয়ামিন মৃধা ও ছেলে রাজন মৃধাকে পাশবিক নির্যাতন করার পর তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এরপর ছেলে রাজনের বিরুদ্ধে সৎ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয় থানায়।
তবে ঘটনার সাতদিন পরে বাবা ও ছেলেকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে অমানবিকভাবে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হলে ঘটনার আসল রহস্য বেরিয়ে আসে। এরপর বাবা-ছেলেকে নির্যাতনের ঘটনায় ইয়ামিন মৃধা থানায় আরো একটি মামলা করেন। এ মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ মামলায় রুমা সহ বুধবার পর্যন্ত গ্রেফতার অন্য আসামীরা হলেন, মাঝকান্দির নাজিমউদ্দীনের ছেলে কুতুব উদ্দিন (৩৬), আসাদুলের ছেলে ফয়সাল (২০), শাজাহানের ছেলে জহিরুল (১৯), আসাদুল মোল্যার ছেলে ফরমান মোল্লা (২১), শাহজাহান মোল্যার ছেলে সজীব মোল্লা (২২), নবিয়াল শেখের ছেলে জুবায়ের শেখ (২০), নূর ইসলাম ভূঁইয়ার ছেলে হাসিব ভূঁইয়া (২০), সাহিদ মোল্যার ছেলে মো. খালিদ মোল্লা(১৯)। তবে এদের মধ্যে আসামী ফয়সাল ও জহিরুল মামলা রুজুর দুদিন পরে আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন করে জামিনে বেরিয়ে আসে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আড়ুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসরাত জাহান লিপি তার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ইভা (৮) কে দত্তক নিতে চেয়েছিলেন। তার এ উদ্দেশ্য সফল করতে মেয়েটির সৎ বাবা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদের নির্দয়ভাবে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয় এবং ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে দিয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করানো হয়। এ ঘটনার পরে ছেলেটির বাবা ইয়ামিন মৃধা জানান, অভিযোগ শুধু আমার ছেলের বিরুদ্ধেই নয়, প্রথমে তারা আমার বিরুদ্ধেও মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিল।
|
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার ( মধুখালী সার্কেল) সুমন কর, মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই)শংকর বালা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।