সাম্প্রতিক সময়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি জলাশয় ভরাটের চেষ্টার দায়ভার ভেড়ামারা পৌরসভা কর্তৃপক্ষের নামে মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পৌর মেয়র আনোয়ারুল কবির টুটুল। গতকাল শনিবার দুপুরে পৌরসভার মেয়রের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে মেয়র আনোয়ারুল কবির টুটুল বলেন, আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন যে গত কয়েকদিন পূর্বে রাতের অন্ধকারে কে বা কাহারা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জলাশয় ভরাট করার চেষ্টা করে। স্থানীয় প্রসাশনের হস্তক্ষেপ পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ভরাট কাজ বন্ধ হয়। এই সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের কোন কর্মকর্তার উপস্থিতি দেখা যায় নাই।

অথচ বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিম ভূ-সম্পতি বিভাগের নিযুক্ত ফিল্ড কানুনগো মোঃ সাহিদুজ্জামান দেশ টিভি সাক্ষাতকারে নিজের পেশাদারি দায়িত্বের অবহেলার দায় পৌরকর্তৃপক্ষের উপর চাপিয়ে তাহার অনৈতিক কাজের অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। এই মিথ্যা অভিযোগ পৌরকর্তৃপক্ষের জন্য সম্মান হানি ।এ ধরনের ধৃষ্টতা আচারনের জন্য তাহার বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সংবাদ সংম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগ জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, মোঃ সাহিদুজ্জামান ফিল্ড কানুনগো ভূ-সম্পত্তি বিভাগ, বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিম, এর অনৈতিক কর্মকান্ডের কারনে ভেড়ামারা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে ভরাট করে ইতিমধ্যে প্রায় ৫১টি দোকানঘর নির্মান হয়েছে। যাদের বৈধ কোন লিজের কাগজ পত্র নাই। পৌরসভা হইতে ইমারত নির্মানের জন্য নকশা অনুমোদন করেন নাই। এ অসৎ কর্মকর্তার কারনে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেমন রেলওয়ে ভূমি হতে বানিজ্যিক ভাড়া আদায়ে ব্যর্থ হচ্ছে। তেমনি ভাবে পৌর কর্তৃপক্ষ পৌর হোল্ডিং করা হইতে রাজস্ব পাচ্ছে না। এতে বাংলাদেশ সরকারের দুইটি প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্পত্তিকে ফিল্ড কানুনগো মোঃ শাহিদুজ্জামান এক নিজের সম্পত্তি ভেবে একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে মাসিক মোটা অংকের টাকা নিয়ে এ সকল অবৈধ স্থাপনা তৈরির কাজে সহায়তা করে আসছে। যার কারণে যত্র তত্র ভাবে রেলওয়ের ভূমির উপর অপরিকল্পিত দোকান ঘর নির্মাণ হওয়ায়, ভেড়ামারা পৌর এলাকার প্রধান সড়কের দক্ষিণ রেলগেট হতে বাসষ্ট্যান্ড এর মসজিদ গলি পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটসহ বর্ষায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

এ জলাবদ্ধতা ও যানজট হতে লাঘব করতে পৌরসভার জিরো পয়েন্ট হতে জিকে ০৩ নং ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্ত করে দুইলেন একমুখি ও দুইলেন বিপরীত মুখি চার লেন রাস্তা, ড্রেন নির্মান, সুপেয় পানি সরবরাহ লাইন নির্মান, সড়ক বাতি স্থাপনের জন্য রেলওয়ের ভূমি ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের নিকট ভেড়ামারা পৌর কর্তৃপক্ষ প্রায় নয় মাস পূর্বে আবেদন করেছিল।

অথচ অদ্যবধি তার কোন সৎ উত্তর পৌর কর্তৃপক্ষ পাইনি এবং এসকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে রাস্তা প্রশস্ত করন কাজ বাস্তবায়ন করা যেতে পারে এ ধরনের পক্ষপাত মূলক প্রতিবেদন দাখিল করেন। যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের ভু-বরাদ্দ কমিটির উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগছেন। পৌরকর্তৃপক্ষ ভূ বরাদ্দ কমিটির সভাপতির সাথে সাক্ষাত পূর্বক তিনি এ তথ্য প্রদান করেন।

অথচ এ সকল অবৈধ দোকান ঘর উচ্ছেদ না করে তাদেরকে বিনা টেন্ডারে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বৈধ বানিজ্যিক লীজ প্রদান করে দিবে কানুনগো এধরনের আশ্বাস দিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য তার নিযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে দোকান ঘর মালিকের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু মানুষ পৌর মেয়র হিসাবে আমার কাছে অভিযোগ করেন।

তিনি আরো লিখিত বক্তব্যে বলেন, ইতিপূর্বে আমি ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে সাবেক মসজিদ কমিটির সহযোগীতায় মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে ঐ কানুনগো ৫১ (একান্ন) টি দোকান ঘর পুকুর বন্ধ করে মসজিদের সামনে নির্মান করায় যার কোন পৌরসভার পৌর কর্তৃপক্ষের নকশা অনুমোদন করা নেই এবং ইমারত নির্মাণ আইন না মেনে এ সকল অবৈধ দোকান ঘর নির্মান করিয়েছেন। দীর্ঘদিন যাবত তিনি এ ধরনের অপকর্ম চালিয়ে আসছেন।

যার পরিপ্রেক্ষিতে তার নিযুক্ত দুর্বিত্তরা ভেড়ামারা পৌর এলাকার মধ্যে রেলওয়ের ভূমি দখল করে একাধিক দোকান ঘরের মালিক হয়েছেন। তাদের দুর্বিত্তায়নের ছোবল থেকে রেলওয়ে কলোনী ও মালমাল আনলোডের স্টোরইয়ার্ড ও রক্ষা পায়নি। আমার ধারনা এর ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ের শতকোটি টাকার উপরে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ সকল দুর্নিতিবাজ কর্মকর্তা ও তাদের নিযুক্ত প্রতিনিধিদের আইনের আওতায় এনে রেলওয়ের ক্ষতি পূরন আদায় সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

এ সকল নানাবিধ কারনে ঐ অসাধু চক্র পৌরসভাকে বিতর্কিত করতে অতি উৎসাহি। ভেড়ামারা পৌরসভা নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সব সময় নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে পৌর কর্তৃপক্ষ বদ্ধ পরিকর। পৌর এলাকার মধ্যে কোন জলাশয় নর্দমায় রুপান্তরিত হোক তা আমরা কখনও চাই না।

তাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট আমার আবেদন আপনারা নিজ দায়িত্বে পৌর এলাকার মধ্যে আপনাদের জলাশয় সংস্কার করুন অথবা পৌর কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করুন এবং জনস্বার্থে অনতি বিলম্বে রাস্তা প্রশস্ত করন ও ড্রেন নির্মাণের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে যে ভূমি ব্যবহারের অনাপত্তি পত্রের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ। যে আবেদন করেছেন তা দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি। সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। আনোয়ার কবির টুটুল, পৌর মেয়র ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া।