জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল দেশের কোনো মানুষ আশ্রয়হীন থাকবে না। পিতার সেই স্বপ্ন পূরণে মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশের গৃহহীন-ভূমিহীনদের ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ গৃহ ও জমি উপহার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ৩য় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে আরো ৩৮টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দেওয়া হয়েছে এই উপহার।

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারাদেশে একযোগে ২৬ হাজার ২২৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমির কাগজপত্রসহ ঘরের চাবি হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুনঃ বোয়ালমারীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪টি ঘর পেল উপকারভোগীরা

এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বিপুল চন্দ্র দাস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহিন উদ্দিন, পৌর মেয়র সাইফুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ দেলোয়ার হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা পারভীন, আলফাডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিদ্দিকুর রহমান, আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সেকেন্দার আলম, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবীর, যুগ্ম সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন ও দপ্তর সম্পাদক মিয়া রাকিবুল প্রমুখ।

এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এবিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল হক জানান, আলফাডাঙ্গা উপজেলাতে ইতোমধ্যে ১ম পর্যায়ে ৩৭০টি, ২য় পর্যায়ে ২৩০টি ও ৩য় পর্যায়ের প্রথম ধাপে ১৩৫টি পরিবারকে জমিসহ গৃহ প্রদান করা হয়েছে। ৩য় ধাপের ২য় ধাপে ৩৮টি ঘর প্রদানের মধ্য দিয়ে এ উপজেলায় এ পর্যন্ত মোট ৭৩৫টি দুই শতাংশ জমিসহ গৃহ প্রদান করা সম্পন্ন হয়েছে। এবারের ৩৮টি গৃহের মধ্যে উপজেলার দীঘল বানা ১৩টি, কুমুরতিয়া ১৮টি, পাড়াগ্রাম এলাকায় ৪টি সহ অনান্য স্থানে আরও তিনটি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।

ইউএনও আরও বলেন, ৩৮টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার যারা প্রধানমন্ত্রীর উপহার গ্রহণ করবেন তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ সকল ধরণের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এ উপজেলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘরগুলোর স্থানীয় গ্রোথ সেন্টারের নিকটবর্তী স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। সেইসাথে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সুবিধা ও বিশুদ্ধ খাবার পানি উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ফরিদপুর বৃক্ষ মেলায় গ্রিনল্যান্ড নার্সারীর বনসাই বট গাছের মূল্য এক লক্ষ আশি হাজার টাকা