ফরিদপুরের সদরপুরে গৃহবধুকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে।শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের সতেররশি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।শনিবার ৩ হামলাকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আহত গৃহিনীর নাম আমিরন নেছা।সে সতেররশি গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার স্ত্রী।
জানা গেছে, উপজেলা সদরের সতেররশি গ্রামের আমিরন নেছা ও তার আত্মীয় মোঃ হেলাল মিয়ার সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘ দিন যাবত।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আমিরন নেছার জমি থেকে জোর করে কলা গাছ থেকে কলা কেটে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ হেলাল মিয়ার ভাই ফজলু মিয়া। কলা-কাটার বিষয়ে আমিরন প্রতিবাদ করলে দুইজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। ফজলু তার পরিবারের লোকজন কে ডাক দিলে তার পরিবারের বোন ও মা এগিয়ে আসে। আমিরনের সাথে ফজলুর বোন সোনিয়া আক্তারের কথাকাটাকটি হলে সোনিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তার হাতে থাকা ধারালো বটি দিয়ে আমিরন নেছার মাথায় কোপ দেয়।
আরও পড়ুনঃ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক ভুয়া চিকিৎসককে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত
কোপের আঘাতে আমিরন নেছার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। ওই সময় রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে আমিরন কে সদরপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আহত আমিরন নেছা হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তার পুত্র মোঃ আরিফ হোসেন বাদী হয়ে মোঃ হেলাল মিয়া, সোনিয়া আক্তার (৩০), তানিয়া আক্তার (৩১), ফরিদা বেগম (৫৫) ও ফজলু মিয়া (২০) কে আসামী করে সদরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
ওই মামলায় সোনিয়া আক্তার, তানিয়া আক্তার, ও ফরিদা বেগমকে সদরপুর থানা পুলিশ আটক করে আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে ফরিদপুর জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।বাকিরা পলাতক রয়েছে।
এ ব্যাপারে সদরপুর থানার এস আই মোঃ তুহিন জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ মারামারি হয়। মামলা দায়েরের পর তিন আসামীকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ধরার অভিযান চলছে।
মামলার বাদী আরিফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ওই জমি আমার পৈত্তিক সম্পত্তি। আমরা ভোগদখল করে আসছি। আসামীরা বিভিন্ন সময় আমাদের উপর অন্যায় ভাবে আক্রমন ও জমি দখল করতে চায়। তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমার মাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে তারা।