মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পর বড়সড় অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের বিরুদ্ধে। সূর্যাস্তের পর জাতীয় পতাকা নামাতেই ভুলে যান এই অফিসের কর্মচারীরা এমনটাই অভিযোগ।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস কর্তৃপক্ষের গাফিলতির ফলেই মধ্যরাত পর্যন্ত তোলা রয়েছে জাতীয় পতাকা, প্রাণী সম্পদ অফিসের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকার অবমাননার এমনই অভিযোগ তুলছেন স্থানীয়রা।
৭০ তম মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২২ইং উদযাপন উপলক্ষে সোমবার (২১শে ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেরই এমন অভিযোগ। কিন্তু জাতীয় পতাকা নামানোর নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত উত্তোলন করা রয়েছে জাতীয় পতাকা। যা দেখে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ তুলছেন স্থানীয়রা।এতে অনেকের মনের মধ্যে ক্ষোভ সৃস্টি হয়েছে সরকারী অফিসের এহেন কর্মকাণ্ডে। খবর সংগ্রহ করতে ততক্ষণে পৌঁছন স্থানীয় সাংবাদিকরাও।
সাংবাদিকরা ঘটনা স্থানে পৌঁছালে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ তাছলিমা আকতারকে অবগত করেন। সেই খবর জানাজানি হয়ে গেলে তড়িঘড়ি করে ছুটে আসেন প্রাণী সম্পদ অফিসের একজন মাঠকর্মী। সাংবাদিকদের দেখতে পেয়ে তড়িঘড়ি করে পতাকা নামিয়ে ফেলেন তিনি। তখন ফেইসবুক লাইভ করছিলেন সংবাদকর্মী কয়েকজন।এই ঘটনায় বিতর্ক আরও বাড়ে।
জাতীয় পতাকা তোলার ক্ষেত্রে সে সকল নিয়ম মানতেই হবে তা হল- সূর্যাস্তের পর পতাকা তুলে রাখা যায় না। যাহা সূর্যাস্তের আগেই সম্মানের সহিদ পতাকা নামিয়ে ফেলতে হয়।সরকারি কোনও নির্দেশ না থাকলে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে রাখতে নেই। জাতীয় পতাকা এমনভাবে তুলে রাখা উচিত যাতে ওড়ার সময় তা জমির ময়লা, কাদাজল স্পর্শ না করে।
আমাদের জাতীয় পতাকা দেশের সম্মানের প্রতীক। কেউ প্রকাশ্যে বা যেকোনও স্থানে পতাকা পোড়ালে, পদদলিত বা নষ্ট করলে তা আইনত অপরাধ হিসাবে গণ্যহবে। এখানেই শেষ নয়, কোনও ব্যক্তি জাতীয় পতাকাকে লিখিত বা মোখিকভাবে অসম্মান করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে।
এব্যাপারে সালথা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, জরুরি কাজে আমি ঢাকায় আছি, আমার অফিসে আমি ব্যতিত একজন স্টাফ আছে সে পতাকা উত্তোলন করে রেখে বাড়িতে গিয়েছিল আসতে দেরী হয়েছে তাই সন্ধ্যার আগে পতাকাটি নামাতে পারেনি। তার দায়িত্বহীনতার কারনে এমনটি হয়েছে ভবিষ্যতে যাতে এরকমটি না হয় সেজন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজোলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ তাছলিমা আক্তার বলেন, কি কারনে প্রানী সম্পদ অফিস এমনটি করেছে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।