ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়ার স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পরে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় একটি মামলা করেছেন। আজ শুক্রবার বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. শাকিলুর রহমান। তিনি জেলার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া এলাকার গোলাম রহমানের ছেলে। ঘটনার শিকার ওই একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পুলিশ পরিদর্শক মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার গণিত শিক্ষকের কাছে ইংরেজি প্রাইভেট পড়তে ও সাজেসন্স নিতে গিয়েছিল ভিকটিম। সেসময় অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে ভিকটিমকে ব্যাড টাচ করে শিক্ষক শাকিলুর রহমান। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা গতরাতে (বৃহস্পতিবার) যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ, ভিকটিম ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক শাকিলুর রহমান পৌরসভার কুণ্ডুপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় প্রাইভেট পড়ান। সেখানে গত সোমবার সকালে তার বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির (ভোকেশনাল) এক ছাত্রী ইংরেজি সাজেসন্স নিতে গিয়েছিল। তখন অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে শাকিলুর রহমান ছাত্রীকে একা পেয়ে জড়িয়ে ধরে এবং জোরপূর্বক অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করেন। সেসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই ছাত্রী দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে বাড়ি চলে যায় এবং পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এরপর ওই ছাত্রীর মা প্রথমে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে জানায়।

আরও জানা গেছে, ঘটনার পরদিনই অভিযুক্ত শিক্ষককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছেন বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলাম। এছাড়াও আজ শুক্রবার সকালে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক শাকিলুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ফ্যানের সুইচ বন্ধ করতে গিয়ে হালকা টাচ লেগেছিল। তাছাড়াও তেমন কিছুই হয়নি।

কুমারখালী সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) সন্তোষ কুমার মদক বলেন, সত্য-মিথ্যা জানি না। বিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনা। বিষয়টি আমি শুনেছি। কেউ লিখিত অভিযোগও করেনি। তবুও ফেসবুকে দেখে আজ (শুক্রবার) সঠিক বিষয়টি জানার জন্য পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে ওই শিক্ষককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।