ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, মশক নিধন এবং পৌর এলাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ফরিদপুর পৌরসভা। এর অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে ফরিদপুর শহরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ডিআইবি বটতলা মোড় থেকে এ কর্মসূচির সূচনা করা হয়। এছাড়া পৌরসভার সব ওয়ার্ডে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

‘মশার বিস্তার রোধ করি, ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ করি’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক, পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মশক নিধন, পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার বংশবিস্তার রোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হয়। এ সময় পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুল আলম, হিসাবরক্ষক কৃষ্ণ সাহা, উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) শরিফুল হাসান, উপসহকারী প্রকৌশলী লাইজিং হোসেন রাজু, কনজারভেন্সি পরিদর্শক বিকাশ দত্ত, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মামুন হোসেন ও লাইসেন্স পরিদর্শক রাশেদ বিন আহমেদসহ পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাকর্মচারীরা। এ ছাড়া ২২ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা ও ফরিদপুর মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরিজ সহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান চলাকালে পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে একাধিক ফগার মেশিনের মাধ্যমে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

কর্মসূচিতে ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ার, পানির ট্যাংক, ড্রাম এবং নালা-নর্দমায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে, এমন স্থানগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং পরিষ্কার রাখার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, শুধু ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন করলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কারণ এডিস মশা বাড়িঘর ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। পৌরসভার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে মশার বংশবিস্তার না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন পৌরসভার কর্মকর্তারা। এ সময় এলাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি, মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় করণীয় বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন নগর পরিবেশ নিশ্চিত করতে মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফরিদপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো, মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগর পরিবেশ গড়ে তুলতে এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এ জন্য পৌর এলাকার সর্বস্তরের নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং পৌরসভার মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।