রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা গঠনের কারিগর খাঁন মোহাম্মদ আইনুল হাবিব মারা গেছেন। শুক্রবার বিকেলে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছর।

কে এম আইনুল হাবিব একটি মানুষ, অনেক ইতিহাস। তবে কালুখালীকে নতুন সাজে সাজানোর সেরা কারিগর হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত।

আশির দশকে তৎকালীন পাংশা থানার কালুখালী এলাকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কান্ডারি হিসেবে আবির্ভাব ঘটে আইনুল হাবিবের। তরুণ ছাত্রসমাজের মাঝে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটিয়ে তাঁদের ছাত্রদল করতে উৎসাহ জোগান আইনুল হাবিব। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর বক্তৃতায় খই ফুটত। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে আইনুল হাবিব বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে তাঁকে সাবেক পাংশা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি দীর্ঘদিন এই দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালে বিএনপি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলে কালুখালীবাসীর মাঝে উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে। ওই সরকারের শেষ দিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পাংশা কলেজ মাঠে জনসভায় এলে তাঁর সামনে কালুখালী উপজেলার দাবি তুলে ধরে অগ্নিঝরা বক্তৃতা দেন আইনুল হাবিব। এই বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে খালেদা জিয়া কালুখালী উপজেলা গঠনের ঘোষণা দেন। ওই সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত একনেকের সর্বশেষ বৈঠকে কালুখালী উপজেলার বিল পাস হয়।

২০০৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ এলে নানা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হন আইনুল হাবিব। তারপরও হাল ছাড়েননি এই অকুতোভয় নেতা।

মানুষ যেদিন আশা ছেড়ে ঘরে বসা শুরু করেছিল, সেদিনও আশা জাগাতে কালুখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব নিয়ে দল গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন আইনুল হাবিব। তিনি দলের গ্রুপিং রাজনীতি ভেঙে দলকে শক্তিশালী করার কাজ করছিলেন। আজ (৬/১১/২০২৬) শুক্রবার জুমার নামাজ শেষ করে দল গঠনের কাজেই বের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হলো না। স্রষ্টার ডাকে না ফেরার দেশে তাঁকে পাড়ি জমাতে হলো।

মৃত্যুকালে কে এম আইনুল হাবিব ১ ছেলে, ১ মেয়ে ও ১ স্ত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।