তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মারিয়া গ্রামে ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে আপন বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন ছোট ভাই ওবায়দুল হক তুহিন (৬০)। সম্প্রতি উপজেলার মারিয়া গ্রামে আমিনের মুরগির খামারের সামনে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে বড় ভাই আমিনুর হক আমিন ও তাঁর ভাগনে জিয়াউল হক রতনের হামলায় ছোট ভাইয়ের মাথা ফেটে আহত হওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। স্থানীয়রা বড় ভাই আমিনুর ও তাঁর ভাগ্নে রতনকে আটক এবং তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। পরে স্থানীয়রা গুরুতর জখম তুহিনকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় গ্রামবাসীদের মাঝে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

হামলাকারীরা হলেন আমিনুর হক আমিন (উপজেলার মৃত আজিজুল হকের পুত্র) এবং জিয়াউল হক রতন (হারেজ উদ্দিন মাস্টারের পুত্র)। তিনি দুর্গাপুর ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। শিক্ষক হয়ে এমন হামলার ঘটনায় জড়িত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ।

ভুক্তভোগী ছোট ভাই তুহিনের অভিযোগ, আপন দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী তাঁর পাওনা প্রায় দেড় কোটি টাকা। কিন্তু বড় ভাই আমিনুর হক আমিন দীর্ঘদিন ধরে সেই টাকা বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। পাওনা টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ ও টালবাহানা করছেন। তুহিন আরও অভিযোগ করেন, গত রোববার দুপুরে পাওনা টাকা চাইতে গেলে বড় ভাই আমিনুর হকের নেতৃত্বে তাঁর ভাগনে জিয়াউর হক রতনসহ কয়েকজন তাঁর ওপর ফিল্মি স্টাইলে অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তাঁকে মারধর করে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তাঁর মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়।

আহত ওবাইদুল হক তুহিন বলেন, ‘আমরা দুই ভাই মিলে দীর্ঘদিন ব্যবসা করেছি। ব্যবসার টাকা বুঝিয়ে না দিয়ে আমাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। পাওনা টাকা চাইতে গেলেই হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। রোববার টাকা চাইতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছি।’

তুহিনের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামী আপন বড় ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসা করে। কিন্তু বড় ভাই কৌশলে তুহিনের প্রাপ্য টাকা আত্মসাৎ করেছেন।’