তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

রাজশাহীর তানোর উপজেলার সরঞ্জাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন ইউপি বিএনপির সম্পাদক মতিউর রহমান খাঁন মতি। ইতিমধ্যে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এবার সরঞ্জাই ইউপি বিএনপি চাপিয়ে দেওয়া কোনো প্রার্থী মেনে নেবে না। অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মতামত, প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, আর্থিক অবস্থা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, আদর্শিকতা, উন্নয়ন মানসিকতা এবং সর্বোপরি ভোটারদের মানসিকতা ইত্যাদি বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রার্থী দেওয়া হলে মতির দলীয় মনোনয়ন বা সমর্থন প্রায় নিশ্চিত।

গত নির্বাচনে তিনি নেতাকর্মীদের চাপে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিতর্কিত ফলাফল ঘোষণায় মাত্র ৯৪ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। যদিও তার কর্মী-সমর্থকদের দাবি, কৌশলে তাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার তারা মুখিয়ে আছেন মতিকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করে সেই হারের প্রতিশোধ নিতে।

এদিকে সচেতন মহলের ভাষ্য, বিত্তশীল পরিবারের সন্তান মতিউর রহমান খান মতি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে। কারণ, ইউপি চেয়ারম্যান পদ থেকে তার নেওয়ার কিছু নেই, তবে দেওয়ার অনেক আছে। উন্নয়ন বরাদ্দের পুরো টাকায় তিনি উন্নয়ন কাজে ব্যয় করতে পারবেন।

জানা গেছে, বিএনপি নেতা মতিউর রহমান খান মতি একজন আদর্শিক ও পরীক্ষিত নেতা, যিনি কখনো কোনো লোভ-লালসার স্রোতে গা ভাসিয়ে দেননি। সব সময় শত প্রতিকূলতার মধ্যে বিএনপির মূল ধারার সঙ্গে থেকে রাজনীতি করে আসছেন। সাংগঠনিকভাবে পিছিয়ে থাকা সরঞ্জাই ইউপি বিএনপিকে শত প্রতিকূলতার মধ্যে যিনি সংগঠিত করে আধুনিকতার ছোঁয়ায় দলের প্রতিটি ওয়ার্ড ও প্রতিটি গ্রামের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফাকে পৌঁছে দিয়েছিলেন, সেই অকুতোভয় সৈনিক মতিউর রহমান খাঁন মতি।

স্থানীয় বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহল মতিকে সবুজ সংকেত দিয়ে মাঠে নামার নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, তার প্রার্থী হওয়ার খবরে একটি বিশেষ মহলের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ ফুটে উঠেছে, যারা দিনে বিএনপি আর রাতে আওয়ামী লীগ করেছিল বা বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতিউর রহমান খান মতি ছাত্রজীবনেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং ছাত্রদল-যুবদল হয়ে এখন তিনি ইউপি বিএনপির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

জানা গেছে, এলাকার উন্নয়ন, সমাজসেবা, ক্রীড়া ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে চলেছেন। ফলে ইউপি জুড়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তার একটি পরিচ্ছন্ন ও নিজস্ব ব্যক্তিমূর্তি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ভোটারদের সিংহভাগ তরুণ। আগামীতে তরুণ প্রজন্ম তাদের প্রতিনিধি হিসেবে জন ও কর্মীবান্ধব তরুণ নেতৃত্ব মতিকে বেছে নিয়েছে। আগামীতে তারা যেকোনো মূল্যে মতিকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে বদ্ধপরিকর। এ ছাড়া ইউপির মধ্যাঞ্চল থেকে তিনিই একমাত্র প্রার্থী হতে চলেছেন, অন্যান্য সবকিছু তার অনুকূলে রয়েছে। আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তার বিজয়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে মনে করছেন আমজনতা।

ইতিমধ্যে তিনি জনসাধারণের কাছে অঙ্গীকার প্রকাশ করে বলেন, আগামী ইউপি নির্বাচনে বিজয়ী হলে সবার সহযোগিতায় তিনি তার সব যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে ইউপির অবহেলিত জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন। এ জন্য সবার কাছে তিনি দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।

এদিকে তৃণমূলের নেতা ও কর্মী-সমর্থক, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অকুণ্ঠ সমর্থন তাকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিজয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী করে তুলেছে। এ বিষয়ে ইউপি বিএনপির সম্পাদক মতিউর রহমান খান মতি বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি ইউপিবাসীকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষা বিস্তার, মাদক প্রতিরোধ, শতভাগ স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ খাবার পানির সুব্যবস্থা ও সবার সমঅধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড গ্রহণের মাধ্যমে সরঞ্জাই ইউপিকে স্মার্ট ইউপি হিসেবে গড়ে তুলবেন।