অর্থনীতি ডেস্ক: শ্রমিকদের জন্য একটি যৌক্তিক, গ্রহণযোগ্য এবং ন্যায্য মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে নবগঠিত নতুন মজুরি বোর্ডের ওপর সরকারের পূর্ণাঙ্গ আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নীতির্ধারকেরা। তারা মনে করেন, মালিক এবং শ্রমিক উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি মজুরি কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হবে, যা সবার জন্য কল্যাণকর হবে। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যেখানে শ্রমিক এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

মজুরি বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত নিয়মের চেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এবার নতুন বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং এর কার্যক্রমও বেশ গতিশীল রয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন করে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তৈরি পোশাক খাতের ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রাখতে শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এই খাতের প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে আসছে এবং এর পেছনে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলেই এই খাতের উন্নয়ন হয়েছে এবং বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। বৈঠকে উপস্থিত সব পক্ষের মধ্যে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব দেখা গেছে, তা কারখানার অভ্যন্তরীণ পরিবেশেও বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এদিকে শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত করতে এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে কিছু মহল তৎপর রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে বহিরাগতরা প্রবেশ করে উসকানি সৃষ্টি করছে এবং বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা চালাচ্ছে, যা সাধারণ শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর। এই পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

দেশের অর্থনীতিতে শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং তাদের ঘামেই বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনেও শ্রমিকদের জোরালো ভূমিকা ছিল। সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সংবেদনশীলতা নিয়ে শ্রমিকদের পাশে থাকবে এবং দেশের সামগ্রিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সবাইকে মিলে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।