স্বাস্থ্য ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং যন্ত্রের ওপর নির্ভরতা মানবদেহের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আধুনিক এই যুগে ছোটখাটো তথ্য মনে রাখার জন্য সবাই মুঠোফোন কিংবা কম্পিউটারের ওপর পুরোপুরি ভরসা করছেন, যার ফলে মস্তিষ্কের কসরত কমে যাচ্ছে। অথচ কিছু সহজ ও প্রাকৃতিক অভ্যাস নিয়মিত চর্চা করলে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব এবং স্মরণশক্তি আগের তুলনায় বহুগুণ বাড়িয়ে নেওয়া যায়।

স্মৃতিশক্তি বিশেষজ্ঞরা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। এই বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যগ্রহণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চা কেবল শারীরিক স্বাস্থ্যই ভালো রাখে না, বরং মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে স্মৃতিশক্তি শাণিত করতেও দারুণভাবে সাহায্য করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সতেজ রাখতে এবং সারাদিনের তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে অত্যন্ত জরুরি ভূমিকা পালন করে।

মস্তিষ্ককে সক্রিয় ও কর্মক্ষম রাখতে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন গবেষকরা। নতুন ভাষা শেখা, কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো কিংবা কঠিন ধাঁধার সমাধান করা মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের সংযোগ বৃদ্ধি করে যা স্মৃতিশক্তি দীর্ঘস্থায়ী করতে সরাসরি সাহায্য করে। এছাড়া প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো ডায়রিতে লিখে রাখার অভ্যাস মস্তিষ্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ মস্তিষ্কের স্মরণশক্তির সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে কাজ করে, তাই মানসিক শান্তি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা ধ্যান বা ইয়োগা করার পরামর্শ দিয়েছেন যা মনকে শান্ত রাখে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। এই ১০টি সহজ জীবনযাত্রিক পরিবর্তন ও অভ্যাস নিয়মিত মেনে চললে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়েও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক স্মরণশক্তি দীর্ঘকাল ধরে অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব।