ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়ার স্টাফ রিপোর্টার: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। বিস্ফোরিত বোমার বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বোমা হামলার এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ ৫ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এ সময় তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। পরে ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে পর পর দুটি বোমা নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিকট শব্দে বোমা দুটির বিস্ফোরণ ঘটলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে।

বোমা হামলাকারী তানজিন রহমান রিদু ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইলামপুর গ্রামের মিজানুর রহমান মিন্টুর ছেলে ও জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের সহযোগী বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় বোমা হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। মোটরসাইকেলটি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে জানতে খাজা আহমেদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন করতেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফোন বন্ধ রাখেন।

বোমা হামলার বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিদ্যালয়ে বোমা হামলার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিদ্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।