ইসমাইল হোসেন বাবু, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকার মৃত সুপাইয়ের ছেলে মিঠু হোসেন (৪৮) ও সুদে শেখের ছেলে রিপন শেখ।

নিহতের বড় ছেলে নাসির হোসেন বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে কুমারখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ সকালে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে। পরে তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাটিকামারা মৌজায় ১০৫ নম্বর দাগে প্রায় ২৫ শতাংশ জমি রয়েছে নিহত নাছিমা, তার স্বামী শহিদুল ইসলাম ও তাদের স্বজনদের। সেখানে প্রায় ৪৩ বছর ধরে বসবাস করছেন তারা। সম্প্রতি ওই জমি নিজেদের বলে দাবি করেন একই এলাকার মৃত জনির উদ্দিনের তিন ছেলে মোমিন শেখ (৫৫), মামুন হোসেন (৫০) ও সেলিম হোসেন (৬০)। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রতিপক্ষের মোমিন তার লোকজন নিয়ে সোমবার ভোর ৫টার দিকে নাছিমার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করে জমি দখলের জন্য একটি ছাপড়া ঘর তৈরি শুরু করেন। এ সময় নাছিমা বাধা দিলে আসামিরা নাছিমাকে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত নাছিমার স্বামী শহিদুল ইসলাম বলেন, গতকাল (রোববার) রাতে বাড়িঘর ভাঙচুর করে দখলের হুমকি দিয়েছিল। সকালে তাই করেছে। জমি দখল করতে এসে আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। আমি আসামিদের ফাঁসি চাই।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নারীকে হত্যার অভিযোগে থানায় একটি হত্যা মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল আমি পরিদর্শন করেছি। সেখানে জায়গা দখলের সত্যতা পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তારી অভিযান চলছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।