মামুন মিয়া, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি

ভাটি বাংলার পলিমাখা পল্লী-প্রকৃতি আর মানুষের হূদস্পন্দনে মিশে আছে আবহমান বাংলার লোকজ উৎসব। তারই ধারাবাহিকতায় এক প্রাণবন্ত রূপময়তায় মাগুরার মহম্মদপুরের প্রবহমান মধুমতি নদীর বুক জুড়ে আয়োজিত হলো চিরায়ত গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ও লোকজ মেলা। ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ দেখতে মধুমতির দু’কুলে নামে লাখো মানুষের ঢল। এতে এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং রূপায়ণ গ্রুপের সহযোগিতায় রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা সংলগ্ন মধুমতির রূপালী পানিতে ক্ষিপ্রগতির কাঠিন্য আর সংগীতার্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় কাঙ্ক্ষিত এই বাইচ। বাইচ উপলক্ষ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মধুমতি নদীর বিস্তৃত দুই কূল জুড়ে জমে ওঠে নানা বর্ণিল পশরায় সাজানো গ্রামীণ মেলা। গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় সওদা থেকে শুরু করে গ্রাম্য কারুশিল্পসহ সব মিলিয়ে পুরো প্রান্তর রূপ নেয় এক লোকজ মিলনমেলায়।

দুপুরে শান্তির প্রতীক কবুতর আর বেলুন উড়িয়ে নৌকা বাইচের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী এ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী-এমপি।

মেলা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মৈমূর আলী মৃধার সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সাংসদ মনোয়ার হোসেন খাঁন, জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহম্মেদ, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহম্মেদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এ্যাড. রোকনুজ্জামান খাঁন ও এ্যাড. মিথুন রায় চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রী এবং ওসি এম. শামীম আহমেদ।

বাইচ শুরু হতেই সঙ্গীতের মায়াবী তাল-লয় আর মাঝিমাল্লা তথা দাঁড়িয়াদের সুসংবদ্ধ ছন্দময় দাঁড় নিক্ষেপে নদীর রূপালী পানি ময়ূরপঙ্খির মতো ঝিলমিলিয়ে ওঠে মধুমতির বুক জুড়ে। কাঁশার গমগমে ‘ঢং ঢং’ ধ্বনি আর সারঙ্গীর উদ্দীপ্ত ‘হেঁইও হেঁইও’ আহ্বানে মধুমতির শান্ত জলরাশি যেন একমুহূর্তে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। নদীর দুই তীরে জমাট বাঁধা হাজারও আমুদে মানুষের করতালি ও উল্লাসে মুখরিত হয় সমগ্র এলাকা।

উৎসবের এই মহতী টানে এদিন সূর্য ওঠার পর থেকেই মাগুরা ও মহম্মদপুর ছাড়িয়ে শালিখা, শ্রীপুর, নড়াইল, ফরিদপুর, আলফাডাঙ্গা এবং বোয়ালমারীসহ দূর-দূরান্ত থেকে নানা বয়সের মানুষ ঢল নামায় মধুমতির দু’কুলে। বৈচিত্র্যময় লোকজ রূপের এই বাঁধভাঙা আনন্দ আর চোখ জুড়ানো রূপময়তা প্রত্যক্ষ করে মোহিত হন উপস্থিত প্রতিটি আমুদে দর্শক।

উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে নৌকা বাইচ শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী এ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী-এমপি ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।