ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য আজ আমাদের পরিবেশের অন্যতম প্রধান সংকট। তবে এই সংকটকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় চালু হয়েছে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ওয়েষ্টেজ পলিথিন রিসাইকেল/পাইরোলাইসিস প্লান্ট। বর্জ্য পলিথিনকে প্রক্রিয়াজাত করে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তেল ‘গ্রীন অয়েল’ ও ‘কার্বন ব্ল্যাক’ উৎপাদনের পাশাপাশি পুরো জেলাকে পলিথিনমুক্ত করতে এক যুগোপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে গ্রীনটেক রিনিউয়েবল এনার্জি।

প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে গ্রীনটেক রিনিউয়েবল এনার্জি-এর মূল উদ্যোক্তা মো. শিমুল আহম্মেদ এবং অংশীদার মো. আমজাদ হোসেন যৌথভাবে জানান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বর্জ্যের পাশাপাশি পরিবেশ থেকে সংগৃহীত পলিথিনকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রিসাইকেল করা হচ্ছে। কুষ্টিয়া জেলাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও পলিথিনমুক্ত মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁরা পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।

এর অংশ হিসেবে প্রথমত ভেড়ামারা পৌরসভাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে নির্দিষ্ট মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে বর্জ্য পলিথিন ক্রয়ের প্রস্তাবনা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য পৌরসভাগুলোকেও এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় যুক্ত করা হবে। এতে একদিকে যেমন পৌরসভাগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হবে, অন্যদিকে পুরো অঞ্চলকে পলিথিনমুক্ত করার কার্যক্রমে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

উদ্যোক্তাগণ আরও জানান, এই প্লান্টে বর্জ্য পলিথিন রিসাইকেল/পাইরোলাইসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত ‘গ্রীন অয়েল’ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বিশেষ করে সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি, রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে (সড়ক নির্মাণ ও কার্পেটিং), ইন্ডাস্ট্রিয়াল বয়লার হিটিং এবং ভারী যন্ত্রপাতির জ্বালানি হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশের বর্তমান জ্বালানি তেলের বিপুল চাহিদা মেটাতে ও জাতীয় অর্থনীতিতে তাঁদের এই উদ্যোগ কিছুটা হলেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।

পরিবেশ সুরক্ষা ও আইনি বৈধতা প্রসঙ্গে উদ্যোক্তাগণ জানান, এই প্রজেক্টটি শতভাগ পরিবেশবান্ধব (Eco-friendly)। পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের নিয়মকানুন ও বৈধ ছাড়পত্র শতভাগ নিশ্চিত করেই প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের ক্ষতির কোনো আশঙ্কা এখানে নেই বরং এটি বর্জ্য হ্রাসের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় দারুণ অবদান রাখছে।

ব্যবসার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে এই প্লান্টটি কুষ্টিয়াকে একটি সবুজ ও পলিথিনমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মূল উদ্যোক্তা মো. শিমুল আহম্মেদ এবং তাঁরই বিশ্বস্ত সহযাত্রী ও প্রতিষ্ঠানের অংশীদার মো. আমজাদ হোসেন।