তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে কথিত সালিসে উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) মাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব ইয়াসিন আলীর এক লাখ এবং একই গ্রামের নাজুর পুত্র শফির ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এদিকে কথিত সালিসের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মাঝে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়, জনমনেও মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) মাড়িয়া গ্রামবাসীর উদ্যোগে তাফসির মাহফিল আয়োজন করা হয়। গ্রামবাসী মাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে তাফসির মাহফিল আয়োজন করার জন্য অনুমতি চায়। কিন্তু স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব ইয়াসিন আলী বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি ব্যতিত তিনি স্কুল চত্বর ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবেন না। এ নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা ও মতবিরোধ দেখা দেয়।

স্থানীয়রা জানান, গ্রামবাসী স্কুলের অনুমতি ব্যতিত স্কুল চত্বরে তাফসির মাহফিল আয়োজন করেন। গত ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনব্যাপী তাফসির মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে কমিটিতে না রাখায় ক্ষুব্ধ হয়ে একই গ্রামের নাজুর পুত্র শফি তাফসির মাহফিলের পরদিন স্কুল চত্বরের ৫টি আমগাছের চারা উপড়ে ফেলেন। এ ঘটনায় গ্রামবাসী তাকে আটক করে গাছের চারা উপড়ে ফেলার কারণ জানতে চাইলে, সে জানায় প্রধান শিক্ষক ইয়াসিন আলীর নির্দেশে তিনি চারাগাছ উপড়ে ফেলেছেন। এ ঘটনায় ২৬ অক্টোবর সোমবার স্কুল চত্বরে সালিস বৈঠক বসানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সালিস বৈঠকে উপস্থিত মাওলানা আলমগীর হোসেন, আসাদুজ্জামান পাইলট, ইউসুফ আলী ও করিম প্রমুখ। এদিন সালিস বৈঠকে প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব ইয়াসিন আলীর এক লাখ টাকা ও শফির ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মামুন, মিজান ও লিটন বলেন, জরিমানার টাকা তাফসির কমিটির কাছে জমা আছে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আম গাছের ৫টি চারার দাম সর্বোচ্চ ৫শ’ টাকা, অথচ সেই উপড়ে ফেলার অপরাধে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা কোনোভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। এছাড়াও প্রশাসনের অনুমতি ব্যতিত এমন সালিস বৈঠকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করার কোনো আইনগত বৈধতা নাই। এটা বিচারের নামে বাণিজ্যের সামিল। তারা এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব ইয়াসিন আলী বলেন, সালিস বৈঠকে ঝামেলা মীমাংসা করা হয়েছে।