রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলকে সারা দেশে পরিচিত ও সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নাটোর-১ (লালপুর–বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল। একই সঙ্গে সরকারের ভালো কাজ বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন সেক্টরে বসে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদারতাকে দুর্বলতা ভাবার সুযোগ নেই। ভালো কাজের পথে বাধা সৃষ্টি করলে সরকার আরও কঠোর হতে বাধ্য হবে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে নাটোরের লালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেডের (নবেসুমি) ৯৪তম আখমাড়াই মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা সবাই মিলে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই, যেন সারা দেশের মানুষ এক বাক্যে এ সুগার মিলকে চিনতে পারে। এ জন্য আপনারা সবাই সহযোগিতা করুন।”

সরকারের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে পুতুল বলেন, বর্তমান সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায়। প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে চায়। কিন্তু বিভিন্ন সেক্টরে বসে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা সরকারের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতে ভেতরে ভেতরে কাজ করছেন। সরকার এসব ষড়যন্ত্র দেখছে না বা শুনছে না, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, “‘বাংলাদেশ সবার আগে, বাংলাদেশ সবার জন্য’—এই স্লোগান বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। ভালো কাজের পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবেন, তাঁদের কারণে সরকার আরও কঠোর হতে পারে। আমাদের কঠোর হতে বাধ্য করবেন না। সহযোগিতা করুন, দেশটা আমাদের সবার।”

সন্তানদের জন্য সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বুকে যেন আর কখনো ৫ আগস্ট ফিরে না আসে, সে ব্যবস্থা সবাইকে মিলে করতে হবে। সহযোগিতা না করে বিরোধিতা করলে অন্য উপায়ও তাঁদের জানা আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মিল কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি ২০২৬-২৭ মাড়াই মৌসুমে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল দেশের চিনি শিল্পের অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান।

মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া টুটুল জানান, চলতি মৌসুমে আখ থেকে চিনি আহরণের হার বা রিকভারি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ ধরে উৎপাদন পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ রিকভারিতে ৯ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদিত হয়েছিল। সে তুলনায় এবার আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ১৮ মেট্রিক টন এবং চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৪৬ মেট্রিক টন বাড়ানো হয়েছে।

এর আগের ২০২৪-২৫ মৌসুমে ২ লাখ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১৫ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৪১ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ রিকভারিতে ১১ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদিত হয়। পরের মৌসুমেও আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

এদিকে, চলতি মৌসুমে আখচাষিদের জন্য প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ২৬ টাকা বাড়িয়ে ৬৫১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মিলের আওতাধীন এলাকার প্রায় ১৫ হাজার আখচাষির মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কৃষকদের নিজ নিজ হিসাবে এ অর্থ পাঠানো হয়েছে।

মিলের তত্ত্বাবধানে চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার কৃষক ১৮ হাজার ৭ একর জমিতে আখ চাষ করেছেন। মিলের ৩১টি ক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ইতিমধ্যে আখ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। চিনিকলটির উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর জীবিকা জড়িত। পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান সুরুজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। এ সময় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু, সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুস সালামসহ মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।