কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার হরিনারায়ণপুরের শিবপুরে দিনব্যাপী চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে ১ হাজার ৬০০ চক্ষুরোগীকে বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুরের দোয়ারকা দাস আগরওয়ালা মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে এ চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এ ক্যাম্পে রোগীদের চোখ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ছানি, নেত্রনালির সমস্যা ও চোখে মাংস বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
দোয়ারকা দাস ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্যাম্পে সহযোগিতা করে বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশন ও গীতাঞ্জলি জুয়েলার্স।
সকাল থেকেই চোখের চিকিৎসা নিতে ক্যাম্পে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। কেউ এসেছেন দীর্ঘদিনের চোখের সমস্যা নিয়ে, কেউবা চোখে ঝাপসা দেখা, ব্যথা কিংবা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার সমস্যা নিয়ে। দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের অনেকেই জানান, অর্থের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে তারা চোখের চিকিৎসা করাতে পারেননি।
দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে বসুন্ধরা আই হসপিটালের চক্ষু চিকিৎসকসহ ১২ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম রোগীদের চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেয়। চিকিৎসাসেবা দেন বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. আহানাফ শাহরিয়ার, ডা. আব্দুল মোমিন আকন ও ডা. মুত্তাকিন মনির। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা দেওয়া হয়।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসংকট কিছুটা দূর হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারা।
চিকিৎসকেরা জানান, চোখের অনেক রোগ শুরুতে সাধারণ মনে হলেও সময়মতো চিকিৎসা না করালে তা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে ছানি, নেত্রনালির সমস্যা ও চোখে মাংস বৃদ্ধির মতো সমস্যায় অনেক রোগীর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না।
চক্ষু ক্যাম্পে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, এমন রোগীদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। ছানি, নেত্রনালির সমস্যা ও চোখে মাংস বৃদ্ধির কারণে অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচিত রোগীদের ঢাকায় নিয়ে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকেরা বলেন, প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষের কাছে উন্নত চক্ষু চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াই এ ধরনের ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য। শুধু ক্যাম্পে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়াই নয়, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে এমন রোগীদের শনাক্ত করে পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
দোয়ারকা দাস ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পবন কুমার আগরওয়ালা বলেন, দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চোখের চিকিৎসার সুযোগ থেকে যেন কোনো মানুষ অর্থের অভাবে বঞ্চিত না হন, সে জন্য ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।
চক্ষু ক্যাম্পের ব্যবস্থাপক আবু তৈয়ব বলেন, ক্যাম্পে আসা রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। যাঁদের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের তালিকাভুক্ত করে ঢাকায় নিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
সকালে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন দোয়ারকা দাস ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পবন কুমার আগরওয়ালা। এ সময় কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র আগরওয়ালা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ক্যাম্পে কম্পিউটারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে চোখে ছানিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ১ হাজার ২০০ রোগীকে ব্যবস্থাপত্র, ওষুধ ও চশমা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাছাই করা শতাধিক রোগীর চোখে লেন্স সংযোজনের মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের। তাদের প্রত্যাশা, বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের সুযোগ পেয়ে কুষ্টিয়ার অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ উপকৃত হবেন।