তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

রাজশাহীর তানোর-আমনুরা ২০ কিলোমিটার রাস্তা তবে প্রশস্ত রাস্তায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬টি সরু সাঁকো এবং শতাধিক গর্ত এখন মরণফাঁদ। অথচ এই পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। কোথাও উঠে গেছে পিচ, কোথাও বেরিয়ে এসেছে ইটের খোয়া, আবার কোথাও তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। ভেঙে গেছে সড়কের পাড়ও। বর্ষায় গর্তে জমে পানি, শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় দুর্বিষহ হয়ে ওঠে চলাচল। ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, অটো-ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে। দীর্ঘদিন সংস্কারের দাবি জানালেও দুর্ভোগ কমার কোনো লক্ষণ নেই।

সরেজমিন দেখা যায়, তানোর-আমনুরা প্রশস্ত রাস্তায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬টি সরু সাঁকো ও বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক গর্ত রয়েছে। কোথাও কার্পেটিং উঠে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে ইটের খোয়া, কোথাও সড়কের পাশের মাটি সরে গেছে। গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চালাতে গিয়ে চালকদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে। সামান্য অসতর্কতায় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকার মানুষের রাস্তা চেনা তাই তারা গর্ত দেখে চলাচল করতে পারছেন। কিন্তু ভিন্ন এলাকার অচেনা বা নতুন পথচারী এই রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন। রাজশাহীর তানোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি এলাকার মানুষ এ রাস্তায় যাতায়াত করেন। রাজশাহী-নওগাঁর সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি চৌবাড়িয়া, মোহনপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম পথ এটি। গুরুত্বপূর্ণ এ বেহাল সড়কে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল।

কৃষ্ণপুর এলাকার বাসিন্দা হারুন বলেন, জীবন হাতে নিয়ে রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল চালাতে হয়। কারণ রাস্তার মাঝে মাঝে এমন ভয়ানক গর্ত দূর থেকে বোঝা যায় না। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন চার্জার অটো, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকগণ। তাদের অভিযোগ, এই পথে চলাচল করার সময় গর্তে পড়ে যানবাহনের যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। গর্তে পড়ে গাড়ি উল্টে যাত্রীসহ একাধিকবার দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এ কারণে অনেক চালক এ পথে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। কেউ কেউ বেশি ভাড়া দাবি করলেও বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার এবং কয়েকটি কোল্ড স্টোর নির্মাণের সময় অতিরিক্ত ওজনের ভারী যানবাহন চলাচল করেছে। তাদের ধারণা, এতে সড়কটির ওই অংশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে কয়েক মাসের মধ্যে সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে কল গ্রহণ না করায় উপজেলা প্রকৌশলী নূর নাহার-এর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।