পাংশা প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
রাজবাড়ী জেলার পাংশায় খ্যাতিমান সাহিত্যিক, পাংশার কৃতি সন্তান এয়াকুব আলী চৌধুরীর ১৩৮তম জন্মদিন আগামী ৩রা নভেম্বর। এবারই প্রথম এয়াকুব আলী চৌধুরী স্মৃতি পাঠাগার ও ক্লাব দিবসটি পালনে দু’দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সাহিত্য অনুরাগকে উৎসাহিত করতে মাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। রচনার বিষয় “এয়াকুব আলী চৌধুরীর জীবন ও সাহিত্য”। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ২রা নভেম্বর পাংশা জর্জ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া ৩রা নভেম্বর পাংশা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে মূল অনুষ্ঠানে তাৎক্ষণিক অনলাইন কুইজ, আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। কুইজে ইন্টারনেট সংযোগ ও কিউআর কোড স্ক্যানারসহ শিক্ষার্থীদের একটি স্মার্ট ফোন নিয়ে অংশগ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনেরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
এয়াকুব আলী চৌধুরী স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক ও উদয়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল আলম সোহরাব এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সাহিত্যিক এয়াকুব আলী চৌধুরীর কোনো ছবি নাই।
পাংশার মাগুড়াডাঙ্গী গ্রামে ১৮ কার্তিক ১২৯৫ (১৮৮৮) এয়াকুব আলী চৌধুরীর জন্ম। তিনি পাংশা হাইস্কুল থেকে এমই এবং রাজবাড়ী সূর্যকুমার ইনস্টিটিউট থেকে এন্ট্রান্স পাস করেন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হলেও বিএ ক্লাসে পড়ার সময় দৃষ্টি শক্তি ক্ষীণ হয়ে পড়ায় তিনি পড়ালেখা ছাড়তে বাধ্য হন।
প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময় স্বীয় অগ্রজ মাসিক সাহিত্য পত্রিকা কোহিনূর সম্পাদক রওশন আলী চৌধুরী রোগাক্রান্ত হয়ে অক্ষম হয়ে পড়লে তিনি ঐ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এয়াকুব আলী চৌধুরী ১৯১৪-১৫ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই থানার জোরওয়ারগঞ্জ হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন। এরপর রাজবাড়ী সূর্যকুমার ইনস্টিটিউশনে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯২০-২১ খ্রিস্টাব্দে পাংশা হাইস্কুলে শিক্ষকতা করার সময় তিনি অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদান করেন এবং ফলস্বরূপ ব্রিটিশ সরকারের হাতে কারাদণ্ড ভোগ করেন। কারামুক্তির পর শিক্ষকতায় ইস্তফা দিয়ে তিনি কলকাতায় যান এবং মেজো ভাই আওলাদ আলী চৌধুরীর সাথে সাংবাদিকতায় যোগ দেন।
এয়াকুব আলী চৌধুরীর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, ধর্মের কাহিনী (১৯১৪), নূরনবী (১৯১৮), শান্তিধারা (১৯১৯) ও মানব মুকুট (১৯২২)। এছাড়া বাংলা একাডেমী এয়াকুব আলী চৌধুরী অপ্রকাশিত রচনা নামক একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে।
১৯৪০ সালের ১৫ই ডিসেম্বর এয়াকুব আলী চৌধুরীর মৃত্যু হয়। পাংশা পৌর শহরের মাগুড়াডাঙ্গী গ্রামে তার সমাধি রয়েছে। প্রতি বছর ১৫ই ডিসেম্বর তার মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়। এবারই প্রথম তার জন্মদিন পালনের আয়োজন করা হয়েছে।