খেলা ডেস্ক: জাতীয় সাঁতারে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে একে একে তিনটি ইভেন্টে নতুন রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিভাবান সাঁতারু ইরফানা খাতুন। এর আগে প্রতিযোগিতার প্রথম দিকে ২০০ ও ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে চমক দেখানোর পর, এবার তিনি ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকেও নিজের নাম লিখিয়েছেন রেকর্ডের পাতায়। মিরপুরের জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এই সাঁতার প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে। তাঁর এই ধারাবাহিক সাফল্য দেশের সাঁতার অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং ক্রীড়ামোদীদের নজর কেড়েছে।
সর্বশেষ ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক ইভেন্টটি সম্পন্ন করতে ইরফানার সময় লেগেছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৫৭ সেকেন্ড। এর আগে ২০১৪ সালে মাহফুজা খাতুন শিলা এই দূরত্ব অতিক্রম করেছিলেন ৩৪ দশমিক ৮৫ সেকেন্ডে। দীর্ঘ বারো বছর পর শিলার সেই পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করলেন এই সেনা সাঁতারু। এর আগে ২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে দুই মিনিট ৪৫ দশমিক ৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে রোমানা আক্তারের গত বছরের রেকর্ডও ভেঙেছিলেন তিনি। পাশাপাশি ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকেও রোমানার আগের রেকর্ড পেছনে ফেলে নতুন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন ইরফানা।
ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলগত ইভেন্টেও দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রতিযোগিতার তৃতীয় দিনে মেয়েদের ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলেতে নতুন রেকর্ড গড়েছে সেনাবাহিনীর সাঁতারুরা। তারা নয় মিনিট ৪৭ দশমিক ৯৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে গত বছর নৌবাহিনীর গড়া নয় মিনিট ৫০ দশমিক শূন্য এক সেকেন্ডের রেকর্ডটি ভেঙে দেয়। এই রেকর্ড গড়া রিলে দলে ইরফানা খাতুনের সঙ্গে আরও অংশ নিয়েছিলেন মুক্তি খাতুন, ছুম্মা খাতুন ও জুঁই আক্তার। তাঁদের সম্মিলিত এই সাফল্যে দলটির শিবিরজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার।
এদিকে তিন দিনের এই প্রতিযোগিতায় সব মিলিয়ে নতুন জাতীয় রেকর্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ষোলোটিতে। পদক তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, যারা এখন পর্যন্ত ২৮টি সোনা, ১৮টি রুপা ও ১৩টি ব্রোঞ্জ জিতেছে। অন্যদিকে ১২টি সোনা, ১৮টি রুপা ও ২২টি ব্রোঞ্জ অর্জন করে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এছাড়া দুটি রুপা ও ছয়টি ব্রোঞ্জ পদক নিজেদের ঝুলিতে পুরে তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিকেএসপি। অবশিষ্ট দিনগুলোতে সাঁতারুদের আরও রোমাঞ্চকর লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রীড়াভক্তরা।