আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় ধরণের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দেশটির প্রধান তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোটের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই সম্প্রচারমাধ্যমগুলো তাদের প্রাথমিক এই জরিপ প্রকাশ করে, যা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রকাশিত জরিপগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারছে না। ১২০ আসনের নেসেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন হলেও বর্তমান জোটটি সেই লক্ষ্য থেকে বেশ দূরে রয়েছে। ফলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কানসহ চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩-এর সমীক্ষায় প্রতীয়মান হয় যে, নেতানিয়াহুর পক্ষে ক্ষমতা ধরে রাখা অত্যন্ত দুরূহ হবে।

জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নেতানিয়াহু নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল জোট পেতে পারে মাত্র ৫০টি আসন, যেখানে তাদের আগের পার্লামেন্টে ৬৮টি আসন ছিল। অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে গঠিত মধ্যপন্থী ও বিরোধী জোট ৫২ থেকে ৫৩টি আসন পেয়ে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া আরব দলগুলোর দুটি মোর্চা ১৭ থেকে ১৮টি আসন অর্জন করতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বুথফেরত জরিপের এই ফলাফল প্রকাশ পাওয়ার পর পরই ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এক কঠোর বিবৃতিতে দাবি করেন যে, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ব্লকটি একটি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এবং ভোটাররা তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। সার্বিক এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগেই দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।