গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের সদর উপজেলায় প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অষ্টম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে একটি মহিলা মাদরাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবার দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, পুলিশ নিখোঁজ ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে। তবে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানাধীন বিকেবাড়ি সিকদার মার্কেট এলাকার মারকাযুল কুরআন আদর্শ মহিলা মাদরাসাকে কেন্দ্র করে। গত ১০ অক্টোবর সকালে মাদরাসায় যাওয়ার পর ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ছাত্রীর বাবা জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল ইসলাম প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে ছাত্রী সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। এরপর থেকে তাঁকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করা এবং জোরপূর্বক অপহরণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

বিষয়টি ছাত্রী তার পরিবারের সদস্যদের জানালে তাঁরা অভিযুক্ত শিক্ষককে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। কিন্তু এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রী ও তাঁর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখান বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবর সকালে প্রতিদিনের মতো মাদরাসায় যাওয়ার পর ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয়। পরিবারের অভিযোগ, মাদরাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম তাঁর ভাই, বাবা, মা এবং মো. দেলোয়ার হোসেনের সহযোগিতায় ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যান।

মেয়ের খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে অনুসন্ধান চালান। কিন্তু প্রথমদিকে তাঁর সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত থানায় মামলা দায়ের করেন ছাত্রীর বাবা।

মামলার প্রধান আসামি মো. আরিফুল ইসলাম (২৯)। তিনি মারকাযুল কুরআন আদর্শ মহিলা মাদরাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক হিসেবে পরিচিত।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—আরিফুল ইসলামের ভাই মো. শরীফ মিয়া (৩৫), বাবা মো. সেলিম মিয়া (৫৫), মা রহিমা খাতুন (৪০) এবং মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫)।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর থানার চরবওলা এলাকায়। তাঁরা গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন জানান, মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত সংবাদে পুলিশি অভিযানে ছাত্রীকে উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়।

ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের পেশাগত সীমারেখা এবং অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

তবে মামলার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।