আশুলিয়া প্রতিনিধি
ঢাকার সাভার ও শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় মাদক সেবন, মাদক কারবার এবং বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালামাল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নাঈম নামের এক যুবককে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় সাংবাদিক খোকন হাওলাদারসহ গণমাধ্যমকর্মীদের হুমকি ও গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে নাঈমের মা হিসেবে পরিচিত নাসিমা আক্তার ওরফে আশার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাংবাদিক খোকন হাওলাদার।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাতে সাভার মডেল থানাধীন দক্ষিণ বক্তারপুর এলাকার রানা ভিলার সামনে পাকা সড়ক থেকে নাঈমের কাছ থেকে ৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের তথ্য সংশ্লিষ্ট পুলিশি প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে ওই মামলার বর্তমান অবস্থা এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে আশুলিয়া থানাধীন বুড়ির বাজারের আমবাগান মসজিদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নাঈম ও তাঁর কয়েকজন সহযোগীর মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীরা বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, ভিডিও ধারণের ঘটনায় নাঈমের মা হিসেবে পরিচিত নাসিমা আক্তার ওরফে আশা তাঁদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এ ছাড়া সংবাদ প্রকাশের কারণে মিথ্যা মামলা ও নারী নির্যাতনের মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সাংবাদিক খোকন হাওলাদার।
অভিযোগকারী সাংবাদিকের দাবি, অভিযুক্ত নারী তাঁর ছেলে মাদক বিক্রি করেন না, শুধু মাদক সেবন করেন বলে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে এ বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে আশুলিয়ার বুড়ির বাজার এলাকার বাস গার্মেন্টসের ভেতরে অবস্থিত বলে উল্লেখ করা ফাহামি গার্মেন্টস ও মুভিবো গার্মেন্টস নামের দুটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালামাল চুরির অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ থাকার সুযোগে বিভিন্ন মেশিনের যন্ত্রাংশ, সিসিটিভি ক্যামেরা, বৈদ্যুতিক তার, মেশিনের কয়েলসহ মূল্যবান সরঞ্জাম সরিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় নাঈম ও তাঁর কয়েকজন সহযোগীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হলেও তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, নাঈমের সঙ্গে চলাফেরা করা কিছু যুবকের কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক কারবার, চুরি ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলা, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা পুলিশের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে।
সাংবাদিক খোকন হাওলাদারের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন বাচ্চু মার্কেটের সামনে তাঁকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং মারধরের চেষ্টা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। প্রতিবাদ করলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশুলিয়া থানা-পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এলাকায় মাদক সেবন ও কারবার, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালামাল চুরির অভিযোগ এবং সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।