আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস মোল্লার সঙ্গে চা-চক্র ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আলফাডাঙ্গা পৌরসভা শাখা।
শনিবার বিকেলে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার পরিবহন কাউন্টার মাঠে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যা, এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, “আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালীর মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এলাকার মানুষের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “উন্নয়নের সুফল যেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ সমৃদ্ধ করা, চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানো এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। জনগণের কথা শোনা এবং তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। আমি চাই, এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাঁদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা জেনে কাজ করতে।”
তিনি বলেন, “দল-মতনির্বিশেষে মানুষের পাশে থাকা এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়াই আমার অঙ্গীকার। এলাকার উন্নয়নে রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও ঐক্যের মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ এলাকা গড়ে তুলতে পারি। এ জন্য জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুন্সী বিল্লাল হুসাইন বলেন, “এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সমাধানের পথ বের করা সহজ হয়। এ ধরনের মতবিনিময় সভা মানুষের কথা তুলে ধরার এবং এলাকার উন্নয়ন নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা করার সুযোগ সৃষ্টি করে। আলফাডাঙ্গাসহ আশপাশের এলাকার ইতিবাচক পরিবর্তনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আন্তরিকতার বিকল্প নেই। এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”