আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে খুব শীঘ্রই নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক। একই সঙ্গে তিনি সিরিয়া ও ইরাকবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূতের দায়িত্বেও নিয়োজিত রয়েছেন। সম্প্রতি একটি অনলাইন পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দেন। মারিও নওফল নামের এক পডকাস্ট উপস্থাপকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে উপস্থাপক জানতে চান যে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ইরানে কোনো হামলা হতে পারে কি না। এই প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে এমন ঘটনা ঘটার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তার এই বক্তব্যের পরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূতের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র সামনে আসে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে সম্ভাব্য কোনো হামলার বিষয়ে তিনি বিন্দুমাত্র অবগত নন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য এবং খোদ প্রেসিডেন্টের এই অজ্ঞতার প্রকাশ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

তবে টম ব্যারাক স্পষ্ট করে বলেছেন যে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য দেশটির সরকার পরিবর্তন করা নয়। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনো তেহরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং আলোচনার দরজা খোলা রেখেছেন। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্পের শর্তগুলোও অত্যন্ত স্পষ্ট বলে তিনি জানান। ব্যারাকের মতে, ওয়াশিংটন এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিস্থিতি চায় যেখানে কোনো জিম্মি সংকট বা বৈদেশিক হুমকি থাকবে না এবং বিশ্বশান্তি বজায় থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে সামরিক অভিযানের ব্যাপারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও রাষ্ট্রপতির কথার মধ্যে এই অমিল প্রশাসনের ভেতরের ধোঁয়াশা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট বা চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।