কৌশিক চৌধুরী, হিলি প্রতিনিধি: দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১০১টি আম ও বরইগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৭টি আমের চারা ও ৫৪টি ফলন্ত বরইগাছ। এ ঘটনায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী তারা মিয়া। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ৮ নম্বর মাহমুদপুর ইউনিয়নের পদুমহার মৌজায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন পদুমহার গ্রামের সোমা উরাও (৫০), অর্জুন উরাও (৩৭), শিরিন সরেন (৩০), ফুলমতি উরাও (৪৫) ও সুমন উরাও (২২)।
তারা মিয়ার অভিযোগ, তাঁর পৈতৃক জমির পাশেই বন বিভাগের ৫০ শতক জমি রয়েছে। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে অভিযুক্তদের বাবা মঙ্গল উরাও ওই জমি তাঁর বাবার কাছে বিক্রি করেছিলেন। এরপর থেকে তাঁরা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। প্রায় দুই বছর আগে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের প্রদর্শনী কার্যক্রমের আওতায় সেখানে কাটিমন জাতের আমের চারা রোপণ করা হয়। পাশাপাশি নিজের পৈতৃক জমিতেও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করছিলেন তিনি।
তবে সম্প্রতি ওই জমি নিজেদের দাবি করে অভিযুক্তরা দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তারা মিয়া। এরই জেরে গত ২০ অক্টোবর জমিতে প্রবেশ করে ৪৭টি আমের চারা ও ৫৪টি ফলন্ত বরইগাছ কেটে ফেলা হয় বলে তাঁর অভিযোগ।
পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছগুলো কাটা অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এতে তাঁর প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা মিয়া। এ ঘটনায় ২২ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, মাহমুদপুর ইউনিয়নে আম ও বরইগাছ কাটার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।