সিংড়া থেকে ফিরে: আলিফ হোসেন
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন চৌগ্রাম-কালীগঞ্জ সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। স্থানীয় এলজিইডি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে যথাযথ মান বজায় রেখেই নির্মাণকাজ চলছে। কাদা ও মাটিমিশ্রিত খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে রাস্তা নির্মাণে বেইজ ও সাব-বেইজ স্তরে নির্ধারিত মানের উপকরণ ব্যবহার এবং যথাযথভাবে কমপ্যাকশন করা হয়েছে। চৌগ্রাম-কালীগঞ্জ রাস্তায় ব্যবহৃত খোয়ার প্রকৃত মান এবং নির্মাণকাজের অনিয়ম নিয়ে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তা সত্যি নয়। একটি গোষ্ঠী অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও নির্মাণকাজ বিলম্বিত করতে অসৎ উদ্দেশ্যে অপপ্রচার শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আর্থসামাজিক চিত্র বদলে যাবে। জেলা ও উপজেলা সদরে সহজ হবে যাতায়াত ব্যবস্থা।
এদিকে এই রাস্তা নির্মাণকাজ ঘিরে এলাকাবاسীর মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে, বিরাজ করছে উৎসবের আবহ। এই রাস্তা নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে সুফল পাবেন এই রাস্তায় যাতায়াত করা কয়েকটি এলাকার মানুষ, পথচারী ও যানবাহন চালকগণ। সহজ হবে জেলা ও উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই রাস্তায় চলাচল করা স্থানীয়দের জন্য ছিল নিত্যভোগান্তি। বৃষ্টির দিনে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পানি-কাদা জমে হেঁটে যাওয়া ছিল দুর্বিষহ। তবে রাস্তার নির্মাণকাজ করায় অবশেষে সেই দুর্দিন কাটিয়ে সুদিন ফিরছে, এলাকায় বইছে স্বস্তির হাওয়া।
অপরদিকে এই রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে এলাকাবাসীর জন্য। নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হবে—সেই আশায় কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মুখে এখন আনন্দের হাসি। স্থানীয় রিকশভ্যান চালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন রাস্তায় ভ্যান চালান। এই রাস্তায় অনেক কষ্ট করতে হতো। রাস্তা নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় এখন সুদিন ফিরেছে, চলাচল অনেক সহজ হয়েছে। অটোরিকশা চালক কাবিল জানান, আগে এই রাস্তায় যাতায়াতে সময় ও ব্যাটারির চার্জ খরচ বেড়ে যেত। রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হলে যাত্রীদের আরাম, আমাদেরও স্বস্তি। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই রাস্তা এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে। কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং সাধারণ মানুষের কর্মজীবনে আসবে নতুন গতি ও স্বাচ্ছন্দ্য।
স্থানীয়রা বলছে, একটি গোষ্ঠী অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে রাস্তার কাজ বিলম্বিত এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে গণকর্মীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব গায়েবি অভিযোগের গুরুত্ব না দিয়ে দ্রুত রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হোক। এই রাস্তা নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি পাবে, একই সঙ্গে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে, সহজ হবে জেলা-উপজেলা সদরের সঙ্গে কয়েকটি এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা।
এদিকে এখনো রাস্তার কাজ সম্পন্ন হয়নি, ঠিকাদারকে এখনো কোনো বিল দেওয়া হয়নি, এলজিইডি এখনো রাস্তা বুঝে নেয়নি, তাহলে এখানেই অনিয়মের প্রশ্ন আসছে কেন? রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হতেই কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলা কতটা যৌক্তিক।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন, আব্দুর রহিম, আলী হোসেনসহ অনেকে বলেন, রাস্তা নির্মাণকাজ বিলম্বিত করতে একটি গোষ্ঠী শুরু থেকেই অহেতুক গায়েবি অভিযোগ উত্থাপন করে আসছে। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বিটুমিন, পাথর, তেল এবং শ্রমিকের মজুরি বেশি, এমনিতেই ঠিকাদারগণ বিপাকে রয়েছেন। এমতাবস্থায় বারবার খণ্ডিত অভিযোগ উত্থাপন করে রাস্তার নির্মাণকাজ বিলম্বিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তারা এসব অভিযোগ আমলে না নিয়ে দ্রুত রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, রাস্তার নির্মাণকাজে অনিয়মের কোনো সুযোগ নাই। তিনি বলেন, নিয়মিত রাস্তার নির্মাণকাজ তদারকি করা হচ্ছে, তিনি নিজেও তদারকি করছেন। এ বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব আলী বলেন, রাস্তা নির্মাণকাজের শুরু থেকেই নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে, এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নাই।