সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় এ বছর ১৫টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবের সার্বিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নজরদারি করছেন সাংবাদিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় চরহাজীগঞ্জ বাজারসংলগ্ন বিন্দুডাঙ্গী গ্রামের একটি পূজামণ্ডপের পাশে মাদক বিক্রি ও সেবনকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বিন্দুডাঙ্গী পূজামণ্ডপের পাশে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেন স্থানীয় মাদক প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা পালিয়ে যান বলে দাবি করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রব।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পূজামণ্ডপের পাশে কয়েকজনের মাদক বিক্রি ও সেবনের বিষয়টি নজরে এলে মাদক প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা তাদের আটক করার চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তদের চড়-থাপ্পড় দেওয়া এবং রশি দিয়ে বেঁধে রাখার চেষ্টা করা হয় বলেও মাদক নির্মূল কমিটির বক্তব্যে জানা যায়।
পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন স্থানীয় বাজার বণিক সমিতির সভাপতি কবির বেপারী, চরভদ্রাসন থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন সঙ্গীও ফোর্স সহ সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন।
এ সময় ইউপি সদস্য আব্দুর রব জানান, এলাকায় মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্গাপূজা চলাকালে কেউ যাতে মাদক বিক্রি ও সেবনের মাধ্যমে উৎসবের পরিবেশ বিঘ্নিত করতে না পারে, সে লক্ষ্যে কমিটির সদস্যরা কাজ করছেন। সোমবার রাতে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হলেও তারা পালিয়ে যান বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, এক ব্যক্তির মাদক সেবন নিয়ে তাঁর স্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করেও আলোচনা হয়। ইউপি সদস্য আব্দুর রবের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী প্রথমে স্বামীর মাদক সেবনের কথা বলেছিলেন। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে তিনি জানান, তাঁর স্বামী কাজ না করে বাড়িতে বসে আড্ডা দেন বলে রাগের মাথায় এমন কথা বলেছিলেন। এ সময় রবিবার ওই মহিলাকে মিথ্যা বলছেন বলে শাসন এ ঘটনায় উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক রিপন বলেন, “আমরা সব সময় আপনাদের পাশে আছি। যেকোনো পরিস্থিতিতে ফোন দিলে তাৎক্ষণিকভাবে হাজির হব। মাদক সেবনকারী ও বিক্রেতাদের আটক করে আমাদের খবর দেবেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।” তবে সতর্ক থাকবেন যেন ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারে কাউকে মাদক কারবারি সাজিয়ে ধরিয়ে না দেওয়া হয়। আমরা কিন্তু যাচাই-বাছাই করব এই ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।
স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ বলেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কীভাবে আটক অবস্থা থেকে পালিয়ে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ এবং পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সবার সম্মিলিত উদ্যোগে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে।
সাংবাদিকদের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সমকালের আবুল কালাম, দিনকালের মোস্তফা মাহমুদ, দৈনিক ইনকিলাবের লিয়াকত আলী, চ্যানেল এসের এম এম সাইফুর রহমান উজ্জল, দৈনিক কালবেলার আসলাম বেপারী, দৈনিক নয়া দিগন্তের সাজ্জাদ হোসেন সাজু এবং আজকের বাংলার আহম্মদ আলী ইমন।