রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের ঐতিহ্যবাহী ঘাঘট নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এক প্রশংসনীয় সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সামাজিক সংগঠন ‘খইরুন নাছ ফাউন্ডেশন’-এর আয়োজনে ঘাঘট নদীতে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যৌথভাবে অংশ নেয় ‘মানবতার দিশারী যুব ফাউন্ডেশন’।
১৯ অক্টোবর সকাল ১০টায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পাল্লার হাট ব্রিজের নিচে ঘাঘট নদীর ঘাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রায়হান সেরাজি। প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্যে তিনি বলেন,
“ঘাঘট নদী আমাদের ঐতিহ্য ও জীবনের সাথে মিশে আছে। অবহেলা ও পরিবেশগত কারণে আগের মতো আর নদীতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য দেখা যায় না। এ অবস্থায় ঘাঘট নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবৃদ্ধিতে খাইরুন নাছ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। জলাশয়গুলোতে মাছের উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটা সম্ভব। নদী ও প্রকৃতির সুরক্ষায় এ ধরনের সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আমরা ভবিষ্যতেও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করব।”
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন খইরুন নাছ ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহ মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন,
“প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও নদীভিত্তিক জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই আমাদের আজকের এই মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি। খাইরুন নাছ ফাউন্ডেশন সবসময় সামাজিক, মানবিক ও পরিবেশবান্ধব কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নদীর মাছেই লুকিয়ে আছে আমাদের পুষ্টি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। আজকের আয়োজনে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়সহ উপস্থিত সকলের সহযোগিতা আমাদেরকে ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক উদ্যোগে অনুপ্রাণিত করবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩ নং বরবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জনাব মোঃ আলী মিন্টু। তিনি তাঁর বক্তব্যে পোনা মাছ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,
“আজকে যে মাছের পোনাগুলো নদীতে ছাড়া হলো, সেগুলো বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। পোনা মাছ না বাঁচলে নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা সম্ভব নয়। তাই আগামী তিন মাস এই স্পটের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে কেউ যেন কোনো ধরনের জাল বা ক্ষতিকারক সরঞ্জাম দিয়ে মাছ না ধরেন। নদী ও পরিবেশ সুরক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খইরুন নাস ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আল মামুন ইসলাম। তিনি তাঁদের সংগঠনের নানা কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে বলেন,
“আমাদের সংগঠন ‘খইরুন নাস ফাউন্ডেশন’ ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালাভের পর খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে আমরা ইতোমধ্যে প্রায় আটটি বিভিন্ন পয়েন্টে এ ধরনের মাছের পোনা অবমুক্ত করেছি। পাশাপাশি আমরা আমাদের সাধ্যমতো অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন মানবতার দিশারী যুব ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোহাম্মদ জীবন আহমেদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন,
“পরিবেশ ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সামাজিক ও যুব সংগঠনগুলোর এভাবেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা উচিত। খাইরুন নাছ ফাউন্ডেশনের চমৎকার ও মহতী এই আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমাদের সামাজিক সংগঠন ‘মানবতার দিশারী যুব ফাউন্ডেশন’ অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সামনের দিনগুলোতেও আমরা সামাজিক ও মানবকল্যাণমূলক যেকোনো কাজে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রেখে যাব।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মানবতার দিশারী যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাফেজ মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট ফাউন্ডেশনগুলোর নির্বাহী সদস্য, সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ, স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বহুসংখ্যক কৌতূহলী সাধারণ জনগণ।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা যৌথভাবে পাল্লার হাট ব্রিজের নিচের ঘাটে ঘাঘট নদীর পানিতে বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির সুস্থ-সবল মাছের পোনা বিসর্জন দিয়ে অবমুক্ত করেন। পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে নিয়মিত এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।