ইসমাইল হোসেন বাবু, জ্যেষ্ঠ স্টাফ রিপোর্টার
চার কোটি টাকার সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট আছে, কিন্তু যন্ত্রাংশের অভাবে মিলছে না সেবা। হিউমিডিফায়ার বোতল ও ফ্লোমিটারের তীব্র সংকটে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের অক্সিজেন নিতে হচ্ছে বেডের নিচে বা মেঝেতে বসে। হাসপাতালের ১০টি ওয়ার্ডের বেশিরভাগ বেডেই জরুরি এই চিকিৎসা সরঞ্জাম চালুর বদলে অচল ও নষ্ট অবস্থায় পড়ে থাকছে।
সরেজমিন হাসপাতালের ১০টি ওয়ার্ড ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে পুরুষ সার্জারি ১০ নম্বর ওয়ার্ড ও মহিলা সার্জারি ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সংকট সবচেয়ে বেশি। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১৮টি বেডের বিপরীতে সচল হিউমিডিফায়ার ও ফ্লোমিটার রয়েছে মাত্র দুটিতে। আর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ২৮টি বেডের বিপরীতে সচল রয়েছে মাত্র পাঁচটি।
৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২০টি বেডের মধ্যে ছয়টি অক্সিজেন ব্যবস্থার সংযোগ অচল অবস্থায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অন্য ওয়ার্ডগুলোর চিত্রও প্রায় একই দেখা গেছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজন আব্বাস বলেন, তার রোগীর অবস্থা গুরুতর। তবে নির্দিষ্ট বেডে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা না পেয়ে অন্য একটি বেডের পাশে মেঝেতে পাটি বিছিয়ে অক্সিজেন দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, রোগীর অবস্থা খুব খারাপ ছিল। তাই আরেক বেডের নিচে পাটি বিছিয়ে অক্সিজেন নিতে হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি দ্রুত ঠিক করা।
১০ নম্বর ওয়ার্ডে ১৬ দিন ধরে ভর্তি থাকা পোড়াদহের কালীনাথপুর এলাকার মুক্তা জাগো নিউজকে বলেন, এগুলো তো চলেই না। যখন দরকার হয়, যেখানে ভালো আছে রোগীকে সেখানে নিয়ে যায়। আবার কোনো কোনো সময় ওই বোতল খুলে এনে অন্য জায়গায় লাগিয়ে অক্সিজেন দেওয়া হয়।
হাসপাতালে ভর্তি সদর উপজেলার আসাননগরের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি অক্সিজেন নিচ্ছি। বেড ফাঁকা ছিল, তাই অক্সিজেন থাকা বেড নিয়েছি। তবে এখানে অক্সিজেনের বোতল নেই।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের নার্স ইনচার্জ বিলকিস খাতুন বলেন, আমার এখানে এক বছর হয়ে গেছে। আমার ওয়ার্ডে দুটি সচল আছে। আমি অন-সার্ভিসে বিষয়টি জানিয়েছি। তবে আমাদের দুটি অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে।
১০ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা নার্স রাবেয়া বলেন, ‘আমি এখন দায়িত্বে আছি। ইনচার্জ বলতে পারবেন কয়টা ভালো আছে। আমাদের সব সিস্টেম জানা আছে। খারাপ রোগী হলে অন্য বেডের পাশে বসিয়ে দিই।
ওয়ার্ড সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা স্থাপনের পর থেকেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কয়েকটি আউটার নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও সেগুলো মেরামতে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সূত্র আরও জানায়, কয়েক দফায় টেকনিশিয়ানরা এসে নষ্ট আউটারগুলো দেখে গেলেও সেগুলো কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে হিউমিডিফায়ার বোতল ও ফ্লোমিটার চুরি বা নষ্ট হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর পরিবর্তে নতুন যন্ত্রাংশ দেওয়া হয়নি। ফলে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের অবকাঠামো থাকলেও প্রয়োজনের সময় রোগীদের অক্সিজেন দিতে গিয়ে ওয়ার্ডের নার্স ও স্বজনদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, করোনাকালীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ উদ্যোগে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপন করা হয়। কিন্তু কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত সেই অবকাঠামো থাকার পরও হিউমিডিফায়ার বোতল ও ফ্লোমিটারের মতো তুলনামূলক কম মূল্যের যন্ত্রাংশের সংকটে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা ব্যাহত হচ্ছে।