তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) রাজশাহী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শমসের আলী ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর অবসরজনিত ছুটিতে গেছেন। তাঁর স্থলে পরিকল্পনা শাখায় কর্মরত তরিকুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএমডিএ’র সব নিয়মনীতি অনুসরণ, চুলচেরা বিশ্লেষণ ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার ভিত্তিতে তরিকুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর বিএমডিএ’র সচিব স্বাক্ষরিত জারি করা স্মারক নম্বর ১২.০৮.–২২.৬৪০৯-এর অফিস আদেশে বলা হয়, রাজশাহী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শমসের আলী ৮ অক্টোবর অবসরজনিত ছুটিতে যাবেন। তাঁর স্থলে পরিকল্পনা শাখায় কর্মরত তরিকুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর পদোন্নতি নিয়ে বিএমডিএ’র অভ্যন্তরে কোনো প্রশ্ন নাই, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পদোন্নতি।
অথচ বিএমডিএ’র অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী মতাদর্শী একটি গোষ্ঠী, বিএমডিএ’র অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং তরিকুল ইসলামকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তরিকুলের পদোন্নতি নিয়ে মানহানিকর নানা অপপ্রচার শুরু করেছেন। তাঁরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মনগড়া সংবাদও প্রকাশ করিয়েছেন।
প্রকাশিত এসব সংবাদে বলা হয়েছে, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তরিকুল ইসলামের পদবি এখনও নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দেখানো হচ্ছে। অর্থাৎ তিনি এখনও পুরোপুরি নির্বাহী প্রকৌশলীও নন, আর সহকারী প্রকৌশলী থেকে চলতি দায়িত্বে আছেন। অথচ তাঁকে সরাসরি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সার্কেল প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ায় নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যা সত্যি নয়, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ ছাড়াও বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের তালিকায় (সিরিয়াল ১৪ ও ১৮) তাঁর নাম ও ছবি রয়েছে, যেখানে তিনি আওয়ামী লীগপন্থী ফ্যাসিস্ট প্রকৌশলী নেতা হিসেবে পরিচিত। যা সঠিক নয়, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ তরিকুল ইসলাম ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসররা সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পনা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন কৌশলে বিএনপি মতাদর্শীদের আওয়ামী ট্যাগ দিয়ে অপপ্রচার করেছেন। তরিকুল ইসলাম নিজেও সেই অপপ্রচারের শিকার।
এদিকে তরিকুল ইসলামের পদোন্নতি নিয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) অভ্যন্তরে নেতিবাচক কোনো আলোচনা নেই। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী মতাদর্শী কতিপয় প্রকৌশলী এ নিয়ে অপপ্রচার ও বিএমডিএ’র অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষ যথাযথ নিয়মনীতি অনুসরণ করেই তাঁকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নাই, চাইলেও ব্যক্তিগতভাবে কেউ কখনো কাউকে পদোন্নতি দিতে পারেন না। তিনি বলেন, এই জ্ঞানটুকু যাদের নাই, তারাই তাঁকে নিয়ে এসব অপপ্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।