ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়ার স্টাফ রিপোর্টার : কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দুর্গাপূজার প্রাক্কালে হিন্দু ধর্মীয় দাস সম্প্রদায়ের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শ্মশানঘাটের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিরুল আরাফাত। এর ফলে বিগত এক বছর ধরে মরদেহ দাহ বা সৎকার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগে থাকা মানুষগুলো অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় সূত্রে জানা যায়, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আরকান্দি মাধবপুরে অবস্থিত তাদের একমাত্র শ্মশানঘাটটি গত বছর পদ্মার ভাঙনে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। ওই ইউনিয়নের ঠাকুর দৌলতপুর এলাকার দাস সম্প্রদায়ের প্রায় ৩৫-৪০টি পরিবার সেখানে বসবাস করে। শ্মশানঘাট নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পর থেকে পরিবারের কেউ মারা গেলে মৃতদেহ দাহ বা মাটিচাপা দেওয়ার মতো একচিলতে জমিও তাদের হাতে ছিল না। এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও বেদনার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন তারা।
ভুক্তভোগীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আমলে নেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিরুল আরাফাত। তার নির্দেশনায় গত দুই মাসের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ও খোঁজখবরের পর বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর মৌজায় প্রায় ১ বিঘা খাস জমি নির্ধারণ করা হয়।
অবশেষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে শ্মশানঘাটের সেই নির্দিষ্ট জমিটুকু দাস সম্প্রদায়ের লোকজনের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেন ইউএনও আমিরুল আরাফাত ও উপজেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সুধীর দাস কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “গত এক বছরে আমাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় ছিল এই শ্মশানঘাট। আমাদের কেউ মারা গেলে তাকে শেষ বিদায় জানানোর মতো এক ছটাক জমিও আমাদের ছিল না। পূজার ঠিক আগে উপজেলা প্রশাসন আমাদের স্থায়ী শ্মশানের ব্যবস্থা করায় আমরা তাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। ভাগ্য ভালো যে, এই এক বছরের মধ্যে আমাদের সম্প্রদায়ের কাউকে এই সংকটের মুখোমুখি হতে হয়নি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, “দুই মাস আগে যখন জানতে পারি যে দাস সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য কোনো শ্মশানঘাট নেই, তখন থেকেই উপজেলা প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছি। আমাদের জেলা প্রশাসক মহোদয়ও এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। সত্যিকার অর্থে, সৃষ্টিকর্তার এই পৃথিবীতে মানুষের শেষ আশ্রয়টুকু থাকবে না এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাদের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পেরেছি।”